আবাসিক ভবনে ভেজাল মদের কারখানা, গ্রেফতার ৩

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের আড়ালে ভেজাল এবং অবৈধ মদ উৎপাদন ও মজুতের একটি গোপন কারখানার সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সেখান থেকে ভেজাল মদ তৈরির অবকাঠামো ও সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ এবং তা তৈরির কেমিক্যাল উদ্ধার করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশনস) মো. বশির আহমেদ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, রিপন হিউবার্ট গোমেজ (৪৮), আবদুর রাজ্জাক (৪০) ও ডেনিস ডমিনিক পিরিছ (৩৭)। অভিযানকালে ৭৯ বোতল বিদেশি মদ, ১৬৬ ক্যান বিয়ার ও ভেজাল মদ তৈরির ১৩২ লিটার কেমিক্যাল জব্দ করা হয়।

বশির আহমেদ বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভেজাল মদ সরবরাহের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও পার্শ্ববর্তী জোয়ার সাহারা এলাকায় দুটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি আবাসিক ভবনের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ভেজাল মদ তৈরির অবকাঠামো ও সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ ও তা তৈরির কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আবাসিক ফ্ল্যাটটির একাধিক কক্ষকে ব্যবহার করা হচ্ছিল ভেজাল মদ প্রস্তুত, বোতলজাত ও সংরক্ষণের জন্য। সেখানে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলে ভেজাল মদ ভরে সিল লাগিয়ে বাজারজাত হচ্ছিল।

জোয়ার সাহারা এলাকায় আরও একটি স্থানে অভিযান চালানো হয় জানিয়ে বশির আহমেদ বলেন, “সেখানে মদের মজুত ও সরবরাহ সংক্রান্ত আলামত জব্দ করা হয়।’ এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনজনকে আসামি করে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

ডিএনসি জানায়, চক্রটি ভারত থেকে অবৈধ পথে সংগৃহীত বিভিন্ন বিদেশি মদ ব্যবহার করে সেগুলোর ওপর তথাকথিত ‘টিউনিং’ করতো। তারা বিভিন্ন রাসায়নিক ও তরল পদার্থ মিশিয়ে মদের রং, গন্ধ ও মাত্রা পরিবর্তন করে নতুনভাবে বোতলজাত করতো, যেন সেগুলো উচ্চমূল্যের বিদেশি মদের মতো দেখায়। এ পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের মান নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট অনুপাত বা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়নি।