চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহায়তা করায় দেশের শীর্ষ ২৪ ব্যবসায়ীর বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ)। অভিযোগটিতে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এ অভিযোগ করা হয়। পরে সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
যদিও রিফাত রশিদ ২৫ জন ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান। তবে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া অভিযোগের কপিতে ২৪ জন ব্যবসায়ীর নাম দেখা গেছে।
রিফাত রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আজকে অভিযোগ দায়ের করেছি। এই ছবি আমাদের কাছে আছে, এই ছবির ভেতর থেকে স্পষ্ট, এদের চেহারাগুলো দেখা যাচ্ছে। আমরা এর মধ্যে ২৫ জন ব্যবসায়ীর নাম আইডেন্টিফাই করেছি এবং তাদের নামে অভিযোগ করেছি এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুইশর অধিক রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রসিকিউশনে বলে দিয়েছি, আজকের মাঝেই যাতে তদন্ত সংস্থার কাছে এটি পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং অতি দ্রুত যাতে বিচারিক যে কার্যক্রম, তদন্ত কার্যক্রম—সেটি শুরু করার মধ্য দিয়ে চার্জশিট প্রণয়ন করা হয় এবং অ্যাজ আরলি অ্যাজ পসিবল বিচারিক যে কার্যক্রম সেটি যেন শুরু করা হয়।”
তালিকায় যাদের নাম রয়েছে
সালমান ফজলুর রহমান (বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা), মাহবুব আলম (এফবিসিসিআইয়ের তৎকালীন সভাপতি), এস এম মান্নান কচি (বিজিএমইএ এর তৎকালীন সভাপতি), মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান), নজরুল ইসলাম মজুমদার (নাসা গ্রুপ ও এক্সিম ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান), মো. হেলাল উদ্দিন (দোকান মালিক সমিতির তৎকালীন সভাপতি), মো. হাতেম (বিকেএমইএ এর তৎকালীন নির্বাহী সভাপতি), নাসিম মঞ্জুর (এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান), আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলম (বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান), মো. সানি (প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী), এ কে আজাদ (হা মীম গ্রুপের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক), আনোয়ার পারভেজ (বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী), আব্দুল মোতালেব (এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক), বজলুর রহমান (এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক), প্রীতি চাকমা (এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক), হাবিবুল্লাহ ডন (বারভিডার সভাপতি), জহিরুল ইসলাম জহির (বাংলাদেশ অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির মহাসচিব), মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান), বিএম ইউসুফ আলী (বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট), মোস্তফা কামাল (মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান), মোহাম্মদ আলী খোকন (ম্যাকসন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান), আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ (নর্দান ট্রাস্টের চেয়ারম্যান), ওবায়দুল করিম (ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান) এবং আ হ ম মুস্তফা কামাল (সাবেক অর্থমন্ত্রী, লোটাস কামাল গ্রুপের চেয়ারম্যান)।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২২ জুলাই ইন্টারনেট শাটডাউন চলাকালে এসব ব্যবসায়ীরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আন্দোলন দমনে সহায়তার প্রতিশ্রুতি ও সার্বিকভাবে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন তারা।