ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে রাজধানীর টেকনিক্যাল, সায়েন্সল্যাব, তাঁতীবাজার, মহাখালীর আমতলী মোড়সহ বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির আওতায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সড়কগুলো অবরোধ করে তারা।
মঙ্গলবার রাতে ‘সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর’ নামের প্ল্যাটফর্মটি সড়ক অবরোধ কর্মসূচির কথা জানায়।
জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এর ফলে গাবতলী, মিরপুর ও কল্যাণপুরমুখী তিনটি সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে করে চতুর্মুখী মোড়টিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঠিক ওই সময়েই তিতুমীরের শিক্ষার্থীরা মহাখালীর আমতলীর সড়কটি অবরোধ করে। এছাড়া পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়কও অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আবির মাহমুদ রবিন বলেন, “আমরা একযোগে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছি মূলত অধ্যাদেশের তারিখের জন্য। অধ্যাদেশের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করলেই আমরা রাস্তা ছেড়ে দেব।”
এদিকে, অবরোধের কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোয় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী-চালকেরা। বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওয়ানা দিচ্ছেন অনেকে।
আন্দোলনকারীদের এক দফা দাবি হলো, আগামীকাল অর্থাৎ, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় উপদেষ্টা পরিষদের সভাতেই ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের হালনাগাদ খসড়ার অনুমোদনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতিকর্তৃক চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি। দাবি বাস্তবায়নের ব্যত্যয় হলে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ অধ্যাদেশটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ থেকে ভেটিং (মতামত নেওয়া) শেষে উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ নিয়ে গঠন হতে যাওয়া ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস গত ১ জানুয়ারি শুরু হয়েছে।
ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতবিরোধ আছে।
আন্দোলনের বিষয়ে যা বলছেন শিক্ষার্থীরা
সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাত কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’ এর খসড়া গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়েছে। খসড়াটি প্রকাশ হওয়ার পরপরই সেটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষে-বিপক্ষে নানা তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা একটি সূত্রে জানতে পেরেছেন, স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পাওয়া পরামর্শের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ওই খসড়া হালনাগাদ করেছেন। সবশেষ গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবন অভিমুখে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন, সেই সভায় ডিসেম্বরের মধ্যে আনুষাঙ্গিক সব কার্যক্রম শেষ করে, জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারি করার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়।