আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন’।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংগঠনের দুই যুগ্ম-সমন্বয়কারী মানবাধিকার কর্মী জাকির হোসেন ও অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর সই করা একটি চিঠি ইতোমধ্যে বিএনপি, সিপিবি, বাসদ, জামায়াত, গণসংহতি আন্দোলন ও এনসিপিসহ নিবন্ধিত সকল প্রধান রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে পার্বত্য সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দলগুলোর ইশতেহারে ৫টি দফা অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার চাওয়া হয়েছে। দাবিগুলো হলো—
১) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচি-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে এই চুক্তির দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে;
২) পাহাড়ে সামরিক কর্তৃত্ব ও পরোক্ষ সামরিক শাসনের স্থায়ী অবসান করতে হবে;
৩) পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহকে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিকীকরণ ও স্থানীয় শাসন নিশ্চিতকরণে পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক যথাযথ ক্ষতায়ন করতে হবে;
৪) পার্বত্য ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন’কে কার্যকরের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উদ্ভাস্তু ও ভারত থেকে প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থীদের পুনর্বাসন করে তাদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে;
৫) দেশের মূলস্রোতধারার অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের ২৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এর মৌলিক বিষয়গুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে পার্বত্য অঞ্চলে সংঘাতময় পরিস্থিতি ও প্রান্তিকতা এখনো বিদ্যমান। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণআন্দোলনে দেশে যে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে, তার ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়াকে আরও গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক করতে পার্বত্য সমস্যার সমাধান অপরিহার্য।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন আশা প্রকাশ করেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এই বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সাথে স্থান দিয়ে পাহাড়ের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সদিচ্ছা প্রদর্শন করবে।