স্পেকট্রাম নিলাম থেকে সরে দাঁড়াল রবি, রইলো শুধু গ্রামীণফোন

‘গোল্ডেন স্পেকট্রাম’ হিসেবে পরিচিত ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম নিলামের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সেই নিলামে অংশ নিয়েছিল রবি আজিয়াটা ও গ্রামীণফোন। তবে, নিলামের সময়সীমা এক মাস বাড়ানোর আবেদন করেও সেখান থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে রবি। এর ফলে নিলামে শুধু বাকি থাকল গ্রামীণফোন। আগামী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নিলামে একমাত্র অংশগ্রহণকারী হিসেবে থাকলো প্রতিষ্ঠানটি। 

এই নিলাম অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেনি বাংলালিংক ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটক। এমনকি, বেসরকারি কোনও প্রতিষ্ঠানও আবেদন করেনি।

দাম ও স্পেকট্রাম সীমা কমিয়েছে বিটিআরসি

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন নিলামের শর্তে সংশোধন এনেছে। প্রতিটি অপারেটরের জন্য ১৫ থেকে ১০ মেগাহার্টজ করেছে সংস্থাটি। প্রতি মেগাহার্টজের দাম ১০ শতাংশ কমিয়ে দুই হাজার ৩৭০ কোটিতে আনা হয়েছে। আর লাইসেন্সের মেয়াদ করা হয়েছে ১৫ বছর।

পরিবর্তনের বিষয়ে বিটিআরসি বলছে, ছোট অপারেটরদের সুরক্ষা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে, বাস্তবে নিলামে এখন কেবল গ্রামীণফোনই রয়ে গেছে। 

রবি’র চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার শহীদ আলম বলেন, “কৌশলগত ও কারিগরি পর্যালোচনার পরই আমাদের প্রতিষ্ঠান নিলাম থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড ভবিষ্যৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, বর্তমান নিলামের সময় ও বাজার পরিস্থিতি রবির অগ্রাধিকারগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. ইমদাদ উল বারি নিলাম থেকে রবির সরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “নিলামের প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে। রবি অন্য একটি ব্যান্ডে স্পেকট্রামের জন্য আবেদন করেছে, যা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হতে পারে।”

প্রস্তুত নয় বাংলালিংক 

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান বলেন, “আর্থিক ও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে এই মুহূর্তে বিনিয়োগ করা আমদের পক্ষে সম্ভব নয়।” ভবিষ্যতে ৮০০ মেগাহাটর্জ ব্যান্ড নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি। 

আইনি ও বাজার চ্যালেঞ্জ

৭০০ মেগাহাটর্জ ব্যান্ডের একটি অংশ (প্রায় ২০ মেগাহার্টজ) এখনও আইনি জটিলতায় আটকে আছে। ফলে ব্যান্ডটির পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ স্পেকট্রাম মূল্য ও অনিশ্চিত বিনিয়োগ ফেরত ছোট অপারেটরদের নিরুৎসাহিত করছে।

৫জি সেবা চালু এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট বিস্তারের জন্য, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও ভবনের ভেতরে কভারেজ নিশ্চিতে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একমাত্র দরদাতা হিসেবে গ্রামীণফোন থাকায় তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ দ্রুত হতে পারে। তবে, প্রতিযোগিতা ও বাজারের ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হতে পারে।