আলোচিত ই-কমার্স প্লাটফর্ম ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাসেলকে চেক ডিজঅনারের ১০ মামলায় সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে তার স্ত্রী কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে দুই মামলায় সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঢাকার সপ্তম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ মো. নিজামউদ্দিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি শামীম আহম্মেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘চেক ডিজঅনারের ১০ মামলায় রাসেলের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড হয়, শামীমার দুই মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড হয়। আজ তাদের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সাজা পরোয়ানামূলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’
এর আগে সোমবার রাতে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
পরে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভূঁইয়া জানান, তাদের দুজনের বিরুদ্ধে ৩৯১টি পরোয়ানা রয়েছে। এরমধ্যে রাসেলের বিরুদ্ধে ২৬৩টি এবং শামীমার বিরুদ্ধে ১২৮টি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরুর পর গাড়ি, মোটরসাইকেল, আসবাবপত্র, স্মার্টটিভি, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিনের মতো পণ্য অর্ধেক দামে বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে সাড়া ফেলে অনলাইন মার্কেট প্লেস ইভ্যালি।
তাদের চটকদার অফারের ‘প্রলোভনে’ অনেকেই বিপুল অঙ্কের টাকা অগ্রিম দিয়ে পণ্যের অর্ডার করেছিলেন পরে বেশি দামে বিক্রি করে ভালো লাভ করার আশায়। কিন্তু মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও তাদের অনেকে পণ্য বুঝে পাননি; ইভ্যালি অগ্রিম হিসেবে নেওয়া টাকাও ফেরত দেয়নি।
একপর্যায়ে ক্রেতা ও পণ্য সরবরাহকারীদের কাছে ৫৪৩ কোটি টাকার দায়ে পড়ে ইভ্যালি। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ইভ্যালিসহ আরও বেশ কিছু ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিক্ষোভে নামে গ্রাহকরা।
এরপর ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাসেল ও শামীমাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয় সে সময়।
আট মাস কারাবাসের পর সবগুলো মামলায় জামিন পেয়ে ২০২২ সালের ৬ এপ্রিল কারামুক্ত হন ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা। তার স্বামী রাসেল জামিনে ছাড়া পান পরের বছরের ১৯ ডিসেম্বর। এর মধ্যে প্রতারণার বেশ কয়েকটি মামলায় তাদের সাজা হয়েছে।