তথ্য অধিকার আইনের সংশোধনী প্রস্তাব

রাজনৈতিক দলগুলোকেও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি 

তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর কার্যকারিতা বাড়াতে এবং নাগরিকের তথ্য প্রাপ্তি সহজ করতে আইনটিতে আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে তথ্য অধিকার ফোরাম। সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদ এই আইনের সংশোধনী আনতে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন করার প্রেক্ষিতে ফোরামের পক্ষ থেকে নোট শিট অন্তর্ভুক্ত করাসহ বেশ কিছু জরুরি সংশোধনী যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

তথ্য অধিকার ফোরামের মতে, যেকোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের ভূমিকা স্পষ্ট করতে ‘তথ্যের’ সংজ্ঞায় নথির ‘নোট শিট’ অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। আইনের ২(চ) উপ-ধারায় এই সংশোধনী আনার দাবি জানিয়েছে তারা, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নেপথ্যের কারণ ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা যায়। 

সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংবিধিবদ্ধ সংস্থার পাশাপাশি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংজ্ঞায় স্পষ্টভাবে যুক্ত করতে হবে। এছাড়া সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স বা বরাদ্দপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকেও ‘কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলোকেও জনস্বার্থে তথ্য প্রদানে বাধ্য করা সম্ভব হবে। 

তথ্য কমিশনারদের পদ শূন্য হওয়ার সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য আইনে নতুন উপ-ধারা ১৫(৮) সংযোজনের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক ও সুবিধা যথাক্রমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের সমান করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

আইনের ২৭ নম্বর ধারায় সংশোধনী এনে তথ্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আপিল কর্তৃপক্ষকেও শাস্তির আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছে ফোরাম। কোনো যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ছাড়া তথ্য দিতে বা আপিল গ্রহণ করতে অস্বীকার করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জরিমানার বিধান করার দাবি জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে তথ্য অধিকার ফোরাম ৩৭টি সংশোধনী প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টার নিকট প্রেরণ করে। ফোরাম মনে করে, আইনটির দেড় দশকেও জনসচেতনতার অভাব ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এর সুফল মিলছে না। তাই একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী সংশোধনীই কেবল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে।