রাজধানীর জুরাইনে ২০১৫ সালে হওয়া একটি হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তিন আসামিকেই জরিমানা করা হয়েছে।
মামলার দীর্ঘ ১০ বছর পর বুধবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. খোরশেদ আলম এই রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম, রবিন। আর যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন, রিপন ও মাসুদ।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি মিলন হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, রবিনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর রিপন ও মাসুদকে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই মামলায় খালাস পেয়েছেন রবিন তানভীর।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, হত্যার শিকার সোহেল কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জে প্যান্টের দোকানে কাজ করতো। ওই সময়ে অসৎ সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এ জন্য মা সুফিয়া বেগম তাকে প্রায় পাঁচ মাস সেইফ কাস্টডিতে রাখেন। ২০১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সেখান থেকে সোহেল বের হয়। রবিনসহ অন্যরা সোহেলকে আবার বিভিন্ন অপকর্মের প্রস্তাব দেয়। এতে সম্মত না হওয়ায় তারা তাকে হুমকি দিতে থাকে এবং ক্ষিপ্ত হয়।
ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে দুপুরে খেয়ে ১টার দিকে এলাকার মসজিদের সামনে হোটেলে ফুফাতো ভাই মিরাজের সঙ্গে বসে ছিল সোহেল। ৩টার দিকে রবিনসহ অন্যরা ডেকে তাকে ঋষিপাড়ার একটি বাসার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, রবিন সোহেলের কপালে গুলি করে। পেটে, বুকে ও গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা সুফিয়া বেগম ওই দিনই কদমতলী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি অভিযোগপত্র জমা দেন কদমতলী থানার ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম। ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। মামলার আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ রায় দিলেন।
সোহেল হত্যাকাণ্ডকে নৃশংস ও পরিকল্পিত উল্লেখ করে রায়ের আগে পর্যবেক্ষণের বিচারক বলেন, “পরিবার এমন হত্যাকাণ্ড প্রত্যাশা করে না। ইন্টারনেটের যুগে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, যা বিশ্বকে নাড়া দেয়। আদালত মনে করে, অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজায় প্রাপ্য।”