সিলেটের কানাইঘাটের একটি পরিবারে ঘটেছে হৃদয়বিদারক ঘটনা। পূর্ব লন্ডনে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছেলের মৃত্যুর কয়েক দিনের মাথায় দেশে মারা গেছেন বাবা। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো— বাবা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জানতে পারেননি, তার আদরের সন্তান আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে বাবা ও ছেলে—দুজনের মরদেহ দুই মহাদেশের হাসপাতালে পড়ে আছে।
গত ২৯ জানুয়ারি শনিবার রাতে বাংলাদেশে মারা যান লন্ডনে নিহত শিক্ষার্থী নাফিজুল হক শাকিলের বাবা ফজলুল হক।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফজলুল হক সম্প্রতি স্ট্রোক করেছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা বিবেচনায় রেখে লন্ডনে ছেলের মৃত্যুর খবরটি স্বজনরা তাকে জানায়নি। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের সময়ও তিনি জানতে পারেননি যে পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে মাত্র এক বছর আগে লন্ডনে আসা তার বড় ছেলে শাকিল আর এই দুনিয়ায় নেই।
শাকিলের বাবার মৃত্যুর বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন বার্টস হেলথ এনএইচএস ট্রাস্টের হেড অব কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ইনক্লুশন খছরুজ্জামান। তিনি শুরু থেকেই শাকিলের চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকি করছিলেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন।
তিনি জানান, শাকিলের মরদেহ এখনও ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী সপ্তাহে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে জানাজা শেষে মরদেহ দেশে পাঠানো হবে।
নিহত নাফিজুল হক শাকিল (২৩) সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাণীগ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে অনেক স্বপ্ন ও আশা নিয়ে এক বছরেরও কম সময় আগে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে আসেন তিনি। উদ্দেশ ছিল উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া।
জানা গেছে, গত ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) পূর্ব লন্ডনের কমার্শিয়াল রোডে বাইসাইকেল চালানোর সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাইভেট কারের চালক হঠাৎ দরজা খুলে দিলে শাকিল ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির লরি তাকে চাপা দেয়।
মুমূর্ষু অবস্থায় শাকিলকে দ্রুত রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ট্রমা ডিপার্টমেন্টে টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে গত মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ৯টা ২১ মিনিটে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মারা যান।
শাকিলের মরদেহ বর্তমানে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে, তার বাবার মরদেহ বাংলাদেশে একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। লন্ডনে অবস্থানরত কানাইঘাটের কমিউনিটি নেতারা শাকিলের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া তদারকি করছেন।
একই পরিবারে এমন মর্মান্তিক বিয়োগান্তক ঘটনায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।