যাত্রাবাড়ীতে তাইম হত্যা: ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনে আদেশ ১৭ ফেব্রুয়ারি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালে গ্রেফতার দুজনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবুল হাসান। তিনি অব‍্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। এছাড়া পলাতক ৯ জনের হয়ে শুনানি করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও লোকমান হাওলাদার। তারাও নিজেদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা প্রসিকিউশনের অভিযোগ নিয়ে বিরোধিতা করেন। মক্কেলরা এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয় বলেও দাবি করা হয়।

পরে এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ২৮ জানুয়ারি ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করে প্রসিকিউশন। ওই দিন শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

এদিন সকালে গ্রেফতার দুই আসামিকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন– যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান ও সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত আলী।

পলাতক আসামিরা হলেন– ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।

২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ওই দিন তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় হাবিব-সুদীপসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে তাইমকে হত্যা করা হয়। বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার বন্ধু রাহাতকেও গুলি চালায় পুলিশ। সব মিলিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ, উসকানি-প্ররোচনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।

প্রসঙ্গত, তাইমের বাবা মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়াও পুলিশের একজন কর্মকর্তা। তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে উপ-পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত।