দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ 

পেট্রোবাংলার পরিচালকসহ ৬ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা 

দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের পৃথক তিন অভিযোগের প্রেক্ষিতে পেট্রোবাংলার পরিচালক ও ইডিসিএল-এর এমডিসহ ৬ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক তিনটি আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন— মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, পরিচালক, পেট্রোবাংলা; আ. সামাদ মৃধা, এমডি, এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল); মাহবুবুল হক, চেয়ারম্যান, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড; মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং; রেজাউল ইসলাম, কোম্পানি সচিব, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এবং আবু মো. আল মামুন, হেড অব রিকভারি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। 

পেট্রোবাংলার পরিচালক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদেশিদের কাছে দেশের গ্যাস মজুদের তথ্য বিক্রি, অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদান এবং নিয়োগ-পদোন্নতি বাণিজ্যের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানান দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, রফিকুল ইসলাম যেকোনও সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। 

অন্যদিকে ইডিসিএল-এর এমডি আ. সামাদ মৃধার বিরুদ্ধে কেনাকাটায় কোটি কোটি টাকার টেন্ডার বাণিজ্য এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম তার আবেদনে জানান, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে সামাদ মৃধার বিদেশ গমন রোধ করা জরুরি। 

এছাড়া প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের চেয়ারম্যান ও এমডিসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। তারাও দেশ ত্যাগ করতে পারেন এমন আশঙ্কায় দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। 

আদালত সবকটি আবেদন মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এবং এর অনুলিপি পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।