বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ অভিযোগের মামলায় ক্রিকেটার তোফায়েলের জামিন

রাজধানীর গুলশানে হোটেলে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে ক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদ রায়হানের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে তার এ জামিনে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত আগামী ৯ মার্চ ধার্য তারিখ পর্যন্ত ১০ হাজার টাকায় মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পেস বোলিং অলরাউন্ডার তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশ ‘এ’ দলের খেলোয়াড়।

ওই নারী বাংলা ট্রিবিউন প্রতিবেদককে বলেন, ‘‘আমি আদালতের সামনে বলছি, আমি তাকে বিয়ের জন্য এসব করেছি। বিয়ের দাবিতে আমি সব জায়গায় সাহায্যের জন্য গিয়েছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমার উদ্দেশ্য এখনও অপরিবর্তিত। আমি চাই তিনি যেন আমাকে বিয়ে করতে রাজি হন।’’

​তরুণী বলেন, ‘‘তবে আজ যে তিনি  জামিন পেলেন, তাতে আমি সন্তুষ্ট না। তার জামিন পাওয়ার কথা ছিল না, কারণ তিনি হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে এতদিন পালিয়ে ছিলেন। কিন্তু আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি ৯ মার্চ পর্যন্ত জামিন পেয়েছেন। আমি বিজ্ঞ আদালতের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছি। দেখি আগামী ৯ মার্চ আমার পক্ষে আদালত কী রায় দেন।’’

সম্প্রতি মামলাটিব তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. সামিউল ইসলাম আসামি তোফায়েলকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ভুক্তভোগী তরুণীকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করেছেন আসামি।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারিতে আসামি তোফায়েলের সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর থেকে তারা ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথা বলতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হলে আসামি তোফায়েল ওই তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে তরুণী রাজি না হলে তাকে বিয়ের জন্য ফুসলিয়ে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি করান। একপর্যায়ে গত বছরের ৩১ জানুয়ারি তাকে স্ত্রী পরিচয়ে গুলশানের একটি হোটেলে নেন। সেখানে নিয়ে আসামি তোফায়েল তাকে ধর্ষণ করেন। তখন তাকে অল্প কিছু দিনের মধ্যে বিয়ে করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে ওই তরুণী তাকে বিয়ের কথা বললে তোফায়েল অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় গত বছরের ১ আগস্ট ওই তরুণী বাদী হয়ে গুলশান থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

মামলা করার পর ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর আসামি তোফায়েলকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে এই জামিন শেষ হওয়ার আগেই ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।