ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত রাজনৈতিক সংঘাত, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এসব ঘটনা জননিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং নির্বাচন নিয়ে জন-আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইউশা রহমান সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হুমকির মুখে পড়বে। সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত।
কমিশন মনে করে, ভোট দেওয়া নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াই প্রত্যাশিত। কোনও অবস্থাতেই সংঘাত, ভীতি প্রদর্শন বা পেশিশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা যাবে না।
সব ধরনের সংঘাত নিরসনে নির্বাচন কমিশনসহ সব পক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া, নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকা এবং আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।
একইসঙ্গে সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও কর্মীদের সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে; যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।