সোনামণিদের কলকাকলিতে মুখর বইমেলার প্রথম শিশুপ্রহর

অমর একুশের বইমেলার প্রথম শিশুপ্রহর ছিল আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি)। এ দিন সকাল থেকেই শিশুদের উচ্ছ্বাস আর কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে শিশুপ্রহর প্রঙ্গণ। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ, ছবি আকার প্রতিযোগিতা, প্রিয় চরিত্রের গল্প আর নানা আয়োজন ঘিরে ছোটদের আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে বইমেলা।

আজ বইমেলার দ্বিতীয় দিন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বরাবরের মতোই বেলা ১১টা থেকেই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হয় বইমেলার দুয়ার। তখন থেকেই শুরু হয় এবারের বইমেলার প্রথম শিশুপ্রহর। শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন শিশুপ্রহর চলে বেলা ১টা পর্যন্ত। 

বই দেখছে শিশুরা (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

সকাল থেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে আসা অনেক শিশু অংশ নেয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায়। বিভিন্ন বইয়ের দোকান ঘুরে ছবিসহ শিশুদের বই দেখে তারা। স্টলগুলোর সামনে দেখা যায় ছোটদের ভিড়। কেউ নতুন গল্পের বই হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখছে, কেউ আবার প্রিয় লেখকের বই খুঁজে পেতে বাবা-মায়ের হাত ধরে এক স্টল থেকে আরেক স্টলে ছুটে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ মগ্ন হয়ে রয়েছে পাপেট শো দেখতে। শিশুপ্রহর উপলক্ষে মেলার নির্ধারিত মঞ্চে আয়োজন করা হয় গল্প বলা, ছড়া আবৃত্তি। 

শিশুদের নিয়ে আসা অভিভাবকরা বলেন, ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি ঝোঁক কমিয়ে বইমুখী করতে বইমেলার পরিবেশ শিশুদের জন্য অনন্য সুযোগ তৈরি করে।

এক শিশুকে বই খুলে দেখাচ্ছেন তার মা (ছবি: নাসরিুল ইসলাম)

এবারও নেই হালুম-ইকরি-শিকুরা

বইমেলায় শিশুপ্রহরে শিক্ষামূলক পাপেট শো সিসিমপুর বরাবরই শিশুদের আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে। তবে গতবারের মতো এবারও বইমেলায় নেই সিসিমপুরের জনপ্রিয় চরিত্রগুলো। প্রতিবার সিসিমপুরের চরিত্র হালুম, শিকু, ইকরি, টুকটুকি মাতিয়ে রাখে শিশুদের। কিন্তু এবার তাদের অনুপস্থিত শিশুদের আহত করেছে অনেকটাই। যদিও অন্য পাপেট শো কিছুটা মন ভুলিয়েছে শিশুদের।

বাবা-মায়ের সঙ্গে মেলায় আসা মাইশা হক বলেন, সিসিমপুর আমার অনেক ভালো লাগে, আমক টিভিতে দেখি। আর যখন ওদের সামনাসামনি দেখি তখন অনেক ভালো লাগে। কিন্তু এবার মেলায় ওরা আসেনি। তাই ভালো লাগে না।

স্টলগুলোর সামনে ছোটদের ভিড় (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

এ সময় রাইদ আফনান নামে আরেক শিশু বলে, সিসিমপুরের হালুম নেই। ভালো লাগে না। অন্য পুতুল আছে। ওরাও ভালো, কিন্তু হালুমের মতো না।

এ সময় রোদে দাঁড়িয়ে থেকে পাপেট শো দেখা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তারা বলেন, পাপেট শো দেখতে সবসময় শিশুরা পছন্দ করে। ওরা এখান থেকে সরতে চায় না। কিন্তু ওদের এখানে একটা ছাউনি দিলে ভালো হতো। এতো রোদের অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ওদের জন্য কষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কষ্ট হলেও ওরা সরতে চায় না। কর্তৃপক্ষের উচিত একটা ছাউনির ব্যবস্থা করা।

অনেক শিশু অংশ নেয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

তবে অভিযোগ থাকলেও সব মিলিয়ে খুদে পাঠকদের প্রাণচাঞ্চল্যে বইমেলার প্রথম শিশুপ্রহর হয়ে উঠেছে আনন্দ, কৌতূহল আর বইয়ের প্রতি ভালোবাসায় ভরপুর এক উৎসবমুখর পরিবেশ।