জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, যদি বাংলাদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ না থাকে, ৩০টি কনসেনসাসের ভিত্তিতে সংস্কার প্রস্তাব না থাকে, গণভোটের প্রশ্নও অবৈধ হয়— তাহলে শেষ পর্যন্ত থাকবে কী? শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থাকে? সরকার থাকে? নিজের গদি থাকে? সবকিছুই বড় ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন। তো এই দায়-দায়িত্ব তাদেরকে নিতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ প্রশ্নে রুল জারির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। আর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যের শপথের জন্য গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়া চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত সপ্তাহে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম। রিটকারীদের দুজনই বিএনপিপন্থী আইনজীবী।
শিশির মনির বলেন, ‘‘সংবিধানের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ কেন অসাংবিধানিক হবে না, এটি একটি রুল। আরেকটি রুল হলো— সংসদ সদস্যদেরকে শপথ বাক্য পাঠ করানোর জন্য যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, ওই চিঠির দ্বিতীয় অংশ সংবিধান সংশোধন সভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়াটা কেন অবৈধ হবে না, এটি আরেকটি রুল। আরেকটি রুল হলো— গণভোটের সেকশন তিন-এ যে চারটি প্রশ্ন দেওয়া আছে, সেটি কেন অবৈধ হবে না? এটি আরেকটি রুল। আর আরেকটি হলো, ওই গণভোট অর্ডিন্যান্সের তফসিলের ৩০টি ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছিল, সেটিকে কেন অবৈধ করা হবে না? এটি হলো আরেকটি রুল। এই চারটি সেপারেট রুল জারি হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, ৫ আগস্টের পরে সংস্কার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল সেই উদ্যোগটাকে রাজনৈতিক মত-ঐক্যের বাইরে নিয়ে এসে আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটার বানানো হলো। অতীতেও আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটার বানানো হয়েছে যেসব বিষয়কে, যেগুলো রাজনৈতিকভাবে সেটেল করার বিষয় ছিল, তার কোনোটারই ভালো ফলাফল আমরা দেখতে পাইনি। ৩০টি বিষয়ে যেখানে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল একমত হলো, সেই ৩০টি বিষয়কেও রুলের অধীনে কার ইনস্ট্রাকশনে আনা হলো, এটি এখনও পর্যন্ত বোধগম্য নয়। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি— এই রিট মামলা শুনানি করার ক্ষেত্রে এবং এই রিট মামলাটি পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সরকারের একাংশের ডাইরেক্ট সংশ্লিষ্টতা দেখা যাচ্ছে। ফলে আমরা ধরে নিতে পারি যে, সরকার এই সংস্কার প্রস্তাবকে পার্লামেন্টকে বাইপাস করে কোর্টের মাধ্যমে সেটেল করে এক ধরনের স্থিতাবস্থা বা এক ধরনের সুবিধা নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। আবার সরকারকে মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে দ্বিচারিতা করছেন। এই দ্বিচারিতার অংশ হিসাবে গতকালকে তারা প্রস্তাব পাঠিয়েছে— ডেপুটি স্পিকারকে বিরোধী দল থেকে দেওয়া হবে। অথচ এটা ৩০টি প্রস্তাবের মধ্যে আছে এবং সবাই একমত হয়েছিল। এটাকে আজকে রুলের অংশ করা হয়েছে। একদিকে বলছেন, ডেপুটি স্পিকার দেওয়া হবে নাম প্রস্তাব করেন। আরেকদিকে নিজস্ব ইন্সট্রাকশনে ইনডাইরেকলি রিট পিটিশন দায়ের করে সংস্কার প্রস্তাবকে আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটার বানাচ্ছেন। এটার নাম হলো দ্বিচারিতা।’’
শিশির মনির বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, একটি রাজনৈতিক দল নিজের পায়ে নিজের কুড়াল মারার চেষ্টা করছে। যদি বাংলাদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ না থাকে, ৩০টি কনসেনসাসের ভিত্তিতে সংস্কার প্রস্তাব না থাকে, গণভোটের প্রশ্নও অবৈধ হয়। তাহলে শেষ পর্যন্ত থাকবে কি? শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থাকে? সরকার থাকে? নিজের গদি থাকে? সবকিছুই বড় ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন। তো এই দায় দায়িত্ব তাদেরকে নিতে হবে। যারা এই প্যান্ডোরার বক্স ওপেন করাচ্ছেন, দে হ্যাভ টু টেক দে রেস্পন্সিবিলিটি অন দেয়ার সোল্ডার। জাতীয় জীবনের এত বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ডিজাইন করে আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটার বানিয়ে পার্লামেন্টকে পাশ কাটানোর যে কৌশল, এটি অতীতেও ভালো কোনও কৌশল হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।’’