রাত সাড়ে ১২টা। রাফি মেসেঞ্জারে লিখলো, “ঘুমাইতেছি, কাল কথা বলি।” ওপাশ থেকে রিপ্লাই—“আচ্ছা, গুড নাইট।” পাঁচ মিনিট পরই রাফি ঢুকে পড়লো অন্য অ্যাপে। কারও স্টোরি দেখছে, কারও প্রোফাইল ঘাঁটছে, আবার বন্ধুদের ডাকে গেমেও যোগ দিলো।
সকালে অবশ্য প্রশ্নটা আসবেই—“ঘুমাইছিলা? অনলাইনে ছিলা কেন?”
এই দৃশ্যটা এখন তরুণ-তরুণীদের মধ্যে খুব পরিচিত। অনেক তরুণ-তরুণীর জীবনেই তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘ডিজিটাল ডাবল লাইফ’—একজনের কাছে অফলাইন, অন্য কোথাও পুরোপুরি অনলাইন।
কেন এই দ্বৈত জীবন?
অপ্রয়োজনীয় জবাবদিহি
এড়াতে অনেক সময় অনলাইনে থাকলেই প্রশ্ন আসে—“কার সঙ্গে কথা বলছো?”, “আমার মেসেজের রিপ্লাই দাও না কেন?” এসব ঝামেলা এড়াতে কেউ কেউ ইচ্ছে করেই অফলাইন দেখান। কিন্তু বাস্তবে তারা অন্য প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকেন।
‘লাস্ট সিন’ চাপ
‘অ্যাক্টিভ নাও’ বা ‘লাস্ট সিন’ এখন অনেক সম্পর্কের বড় সমস্যা। কেউ দেরিতে রিপ্লাই দিলেই সন্দেহ। তাই কেউ কেউ স্ট্যাটাস বন্ধ রাখেন, আবার আলাদা জায়গায় সময় কাটান। এটা তাদের কাছে নিরাপদ উপায়।
সোশ্যাল ব্যাটারি শেষ
সারাদিন চ্যাট, কল, নোটিফিকেশন—সব মিলিয়ে মানসিক ক্লান্তি আসে। তখন “ঘুমাচ্ছি” বলা মানে আসলে একটু নিজের সময় চাওয়া। হয়তো সে কথা বলতে চাইছে না, কিন্তু একা একা স্ক্রল করতে চায়।
কৌতূহল আর নীরব ব্রাউজিং
রাতের সময় অনেকেই চুপচাপ অন্যের প্রোফাইল দেখেন। পুরনো সম্পর্ক, নতুন ক্রাশ, পরিচিত কেউ—সবাইকে একটু দেখে নেওয়া। সামনে না এসে আড়াল থেকে দেখার এই অভ্যাসও দ্বৈত উপস্থিতি তৈরি করছে।
একান্ত বিনোদন
অনেকে চ্যাট এড়িয়ে ঢুকে পড়েন গেমে। এসব গেমে রাতের দিকে তরুণদের উপস্থিতি বেশি। সেখানে পরিচিত মহল আলাদা, প্রশ্নও কম।
সম্পর্কের ওপর প্রভাব কী?
এই অভ্যাস সবসময় খারাপ নয়। অনেকেই বলেন, এটা ব্যক্তিগত পরিসর রক্ষার চেষ্টা। কিন্তু সমস্যা হয় তখনই, যখন এক পক্ষ বিষয়টা বুঝতে পারে না। সন্দেহ, ভুল বোঝাবুঝি আর ছোট ছোট ঝগড়া জমতে জমতে বড় হয়ে যায়।
শেষ কথা
ডিজিটাল দুনিয়ায় সবসময় অনলাইন থাকা মানেই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকা নয়। কখনও “ঘুমাচ্ছি” মানে সত্যি ঘুম, আবার কখনও সেটা শুধু একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার অজুহাত।
তরুণদের এই ‘ডিজিটাল ডাবল লাইফ’ আসলে মিথ্যা নয়, বরং নিজের মতো থাকার ছোট্ট কৌশল—যার ভেতরে আছে স্বাধীনতা, ক্লান্তি আর কিছুটা কৌতূহল।