তুরাগে বিস্ফোরণের উৎস জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস

রাজধানীর তুরা‌গের কামারপাড়া এলাকার একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। বাসার ভেতরে জমে থাকা গ্যাস থেকেই ওই বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর।

সংস্থাটি বলছে, বাসার ভেতরে গ্যাস সিলিন্ডার ছিল না। লাইনের গ্যাস ব্যবহৃত হতো সেখানে। গ্যাসের লাইনের লিকেজ বা রান্নার চুলার চাবি হয়তো খোলা (অন) ছিল। কোনোভাবে স্পার্ক হয়ে ওই জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোর পৌনে ৪টার দিকে তুরাগের ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোড চারতলা একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটে ঘটনাস্থলে যায়। তবে তাদের কাজ করতে হয়নি। এর আগেই দগ্ধদের উদ্বার করে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর।

সংস্থাটির মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ওই বাসায় লাইনের গ্যাস সংযোগ ছিল। হয়তো গ্যাস লাইনে লিকেজ ছিল বা রান্না ঘরের চুলার চাবি অন ছিল। সেখান থেকেও গ্যাস জমে থাকতে পারে।

তার ধারণা, বাসার দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় গ্যাস বের হতে না পেরে জমে ছিল। হয়তো বৈদ্যুতিক সুইচ অন করা হয়েছে অথবা রান্নার (সেহরির সময় হওয়ায়) জন্য আগুন ধরানো হয়েছিল। সেখান থেকে কোনোভাবে স্পার্ক হয়ে বিস্ফোরণ হয়েছে। তবে তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম দোলন।

তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার এক পাশের দেওয়াল ভেঙে পড়েছে। কিছু একটা বিস্ফোরণ হয়েছে সেখানে। তবে কিসের বিস্ফোরণ তা জানতে তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, বাসার সবাই গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা সুস্থ হলে কথা বলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে গিয়ে দেখা গেছে, দগ্ধদের মধ্যে ছয় জনকে নিচতলায় ইমার্জেন্সিতে ও বাকিদের ছয়তলায় পোস্ট অপারেটিভ ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ইমার্জেন্সি ইউনিটের বাইরে একজন স্বজনকে দেখা গেছে। তার নাম সাজেদ মাতব্বর। তিনি দগ্ধ এনায়েতের ভাগনে। তাকে চিকিৎসকরা বিভিন্ন সময় নানা ওষুধ আনার কথা বলছেন। তিনি সেগুলো এনে দিচ্ছেন।

এর ফাঁকে কথা হলে তিনি জানান, ওই ভবনের চারতলায় আমি থাকি। ঘটনার সময় আমি ঘুমে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে আমার ঘুম ভাঙে। পরে উঠে দেখি সবাই চিৎকার-চেঁচামেচি করছে। দ্রুত নিচে নেমে দেখি, দোতলার ফ্লাটের একপাশের দেওয়ার ভেঙে নিচে পরে আছে। বাসার সবাই দগ্ধ হয়েছেন। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে আনা হয়।

কিসের শব্দ ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বলতে পারছি না।

এর আগে ভোররাতে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধরা হলেন– রুবেল (৩০), তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা সোনিয়া আক্তার (২৫), মেয়ে রোজা (৩), সোনিয়ার বড় বোন রিয়া (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই এনায়েত (৩২), তার স্ত্রী দেলেরা (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১০), এনায়েতের ছোট ভাই হাবিব (৩০), এনায়েতে ভাগনি আয়েশা (১৯) ও আবুল কালাম রুবেল (৩৫)।

বার্ন ইনিস্টিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বলেন, সোনিয়ার শরীরের শতভাগ, মো. রুবেলের ৩২ শতাংশ, রোজার ১৮ শতাংশ, মো. হাবিরের ১৯ শতাংশ, রিয়া আক্তারের ৩২ শতাংশ, এনায়েতের ৪৫ শতাংশ, দোলানা খাতুনের ১৪ শতাংশ, জোনায়েদের ২৪ শতাংশ, আয়েশা আক্তারের ১২ শতাংশ, ও আবুল কালাম রুবেলের শরীরের সাত শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।