রাজধানীর উত্তর যাত্রাবাড়ী ধলপুরের লিচু বাগান এলাকায় ২০টি কুকুর হত্যার অভিযোগের মামলায় তিন জনের আড়াই বছরের কারাদণ্ড নিয়েছেন আদালত। রবিবার (৮ মার্চ) বিকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মো. আবুল খায়ের, মো. অপু ও মো. মানিক। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সাইম উদ্দিন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিচারক রায়ে প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ এর ১৬(ক) ধারায় প্রত্যেককে ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। একই আইনের ১৬(খ) ধারায় প্রত্যেককে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। উভয় ধারার সাজা একত্রে চলবে। সেই ক্ষেত্রে আসামিদের প্রত্যেককে দুই বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. মানিক উপস্থিত ছিলেন। তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুরের লিচু বাগান এলাকায় লোহার রড, সাড়াশি ও প্রাণঘাতি ইনজেকশন দিয়ে ২০টি কুকুর হত্যা করে বস্তায় ভরে নিয়ে যায় মামলার আসামিরা। পরে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, তারা অ্যানিমেল লাভারস অব বাংলাদেশ ও মামলার বাদী মো. মারুফুল হকসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। এ ঘটনায় দুদিন পর অ্যানিমেল লাভারস অব বাংলাদেশের পক্ষে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন মো. মারুফুল হক।
মামলাটি তদন্ত শেষে আবুল খায়ের মোল্লা, মো. অপু ও মো. মানিকদের বিরুদ্ধে কুকুর হত্যার কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। সে জন্য তাদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।
২০২৪ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলাটির বিচারকালে আদালত তিন জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।