অমর একুশে বইমেলার পর্দা নামার অপেক্ষায় রয়েছে আর মাত্র তিন দিন। বসন্তের আবহে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলা শেষের বিদায়ী সুর শোনা যাচ্ছে। মেলা শেষ হওয়ার আগে পছন্দের বইগুলো সংগ্রহ করতে পাঠকদের পদচারণায় এখন মুখর হয়ে উঠেছে স্টলগুলো।
বিকাল ও সন্ধ্যার দিকে কিছু পাঠক ও দর্শনার্থী মেলায় এলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় উপস্থিতি তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন প্রকাশক ও সংশ্লিষ্টরা। তবে শেষ সময়ে পাঠকের উপস্থিতি বাড়বে এবং বেচাকেনাও কিছুটা বাড়বে এমন আশা প্রকাশ করছেন প্রকাশকরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রকাশনীর স্টলে আগের চেয়ে পাঠকদের ভিড় বেড়েছে। কেউ নতুন প্রকাশিত বই দেখছেন, আবার কেউ পছন্দের লেখকের বই কিনে নিচ্ছেন। বিশেষ করে বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
মওলা ব্রদার্সের ব্যবস্থাপক শাহিন শিকদার বলেন, “আগের দিনগুলোর তুলনায় আজ একটু বেচাকেনা বেশি। আগে শুধু মানুষজন মেলা দেখতে আসতো, ১০০ জন আসলে ২০ জন বই ক্রয় করতো কিন্তু এখন ১০০ জন আসলে ৮০ জনই বই ক্রয় করতেছে। আশাকরি সামনে যে দিনগুলো আছে বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়বে।”
মুক্তধারা প্রকাশনীর বিক্রেতা আশরাফ হোসেন সিমান্ত বলেন, “মেলায় রোজার কারণে পাঠক কম আসলেও বেচাকেনা আগের চেয়ে একটু ভালো। এখন যারা আসছে সবাই বই কেনার উদ্দেশ্যেই আসছে।” সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি বেচাকেনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চন্দ্রবিন্দু প্রকাশনীর প্রকাশক মঈন ফারুক বলেন, “মেলার প্রথম দিকে মানুষ ঘুরতে বেশি আসলেও বই কেনার হার তুলনামূলক কম ছিল। তবে এখন শেষের দিকে এসে অনেকেই পছন্দের বই একসঙ্গে কিনছেন। আশা করছি, বাকি দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে।”
মেলায় ঘুরতে আসা হাবিব বলেন, “ব্যস্ততার কারণে আগে আসা হয়নি। তাই মেলা শেষ হওয়ার আগে পছন্দের কয়েকটি বই কিনতে এসেছি। এখানে এসে নতুন অনেক বইও দেখছি। লোকজন কম হলেও মনে হলো সবাই বই কেনার জন্যই আসছে।”
পরিবার নিয়ে মেলায় আসা এক প্রকৌশলী বলেন, “বইমেলা আমাদের কাছে এক ধরনের পারিবারিক আনন্দের জায়গা।বইয়ের প্রতি আলাদা একটা আকর্ষণ রয়েছে। সন্তানদের মাঝে যেন এই প্রভাব থাকে তাই পরিবার নিয়ে এসে শিশুদের জন্যও কিছু বই কিনেছি।”
উল্লেখ্য, মেলায় রমজানের প্রভাব থাকলেও বিকালে ও সন্ধ্যায় পাঠকদের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ প্রাণ ফিরে পায়। শেষ কয়েকদিনে বেচাকেনা আরও ভালো হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।