মৃত্যুর কথা শুনলেই অনেকেই কেঁপে ওঠেন। কিন্তু থাইল্যান্ডের নন্টাবুরি প্রদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন একটি উৎসব, যেখানে মৃত্যুকে ভয় নয়, বরং খোলা চোখে দেখার সুযোগ। এটি কোনও ভয়ের আচার নয়, বরং জীবনকে আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করার এক অনন্য আয়োজন।
১৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের উৎসবটি শেষ হচ্ছে আজ। “ডেথ ফেস্ট” নামের এই উৎসবে চিলতে আলো, কফিনের সারি ও মানুষের উচ্ছ্বাস মিলিয়ে মনে হবে আপনি এক অন্য জগতে ঢুকে পড়েছেন।
কফিন খেলা: মৃত্যুর সঙ্গে খোলামেলা মুখোমুখি
উৎসবের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো ‘টেস্ট ডাই’। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন আকৃতি ও নকশার কফিনে শুয়ে মৃত্যুর সংক্ষিপ্ত অনুভূতি নিতে পারেন। কফিনের ভিতরে আয়না থাকায় নিজের প্রতিচ্ছবিও দেখা যায়। এছাড়া আছে জৈবিক কফিন, যা প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে পচিয়ে দেয়। কেউ চাইলে নিজের পছন্দের কফিন আগেভাগেই কিনেও রাখতে পারেন।
একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, “প্রথমে ভয় লাগছিল, কিন্তু শুয়ে দেখলাম—মৃত্যু ভয়ের জন্য নয়, বরং জীবনকে আরও মূল্যবানভাবে বাঁচার উদ্দীপনা জাগাচ্ছে।”
জীবন ও মৃত্যুর পরিকল্পনা
উৎসবে শেখানো হয় কীভাবে জীবন শেষ পর্যন্ত সুস্থ থাকবে এবং অসুস্থ হলে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। পরিচিত কারো মৃত্যু হলে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ ও আয়োজন কেমন হবে, সেটাও খোলাখুলি আলোচনা করা হয়। আয়োজক জকংক্লোদ ব্যাংইখান বলেন, “মৃত্যুর নাম শুনে অনেকে ভয় পান। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য—যাঁরা বাঁচবেন, তাঁদের জীবন যেন মসৃণ হয়।”
জীবনের গল্পের কফি
এক কাপ কফি হাতে বসে অংশগ্রহণকারীরা জীবন ও মৃত্যুর গল্প শোনেন। হাসি, চোখের জল আর আত্মপ্রকাশ—সব মিলিয়ে জীবনের মূল্য বোঝা যায়।
বন্ধুত্ব, হাসি ও আনন্দ
উৎসবের শেষ পর্যায়ে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, হাসি ও খাবার ভাগাভাগি করা হয়। জীবন মানেই শুধু বাঁচা নয়, স্মৃতি তৈরি, সম্পর্ক গড়া এবং আনন্দ ভাগাভাগি করা।
নাম যত ভয়ঙ্কর, অভিজ্ঞতা তত মজার। থাইল্যান্ডের ‘মৃত্যু উৎসব’ শেখাচ্ছে—মৃত্যুকে ভয় না করে, জীবনকে পুরোটা দিয়ে বাঁচাই আসল আনন্দ। দর্শকরা উৎসব থেকে বের হয়ে বলছেন, “এখান থেকে বের হয়ে বুঝলাম—জীবনকে অন্য চোখে দেখা যায়, এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে পুরোটা দিয়ে বাঁচাই সম্ভব।”