রাজধানীর উত্তরায় রিকশাচালককে মারধরের গুজবকে কেন্দ্র করে ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিং কমপ্লেক্সে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) উত্তরা পশ্চিম থানায় হওয়া মামলায় অজ্ঞাতনামা ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি কাজী রফিক আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উত্তরায় শপিং কমপ্লেক্স ঘেরাও করে ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এতে অজ্ঞাতপরিচয় ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।
এদিকে, আজ সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এম নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, রিকশাচালককে মারধর করে শপিংমলের ভেতরে বেধে রাখার খবরটি সম্পূর্ণ গুজব। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সংঘর্ষের সময় বিক্ষুব্ধদের হামলায় পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন বলে জানান নজরুল ইসলাম।
এর আগে রবিবার রাতে এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ গুম করার অভিযোগ তুলে উত্তরা স্কয়ার শপিং কমপ্লেক্স ঘেরাও ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই শপিং কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে এক রিকশাচালকের বাগবিতণ্ডা হয়, যা একপর্যায়ে মারামারিতে রূপান্তরিত হয়। পরে রিকশাচালক মারা গেছেন এবং তার মরদেহ ভবনের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত রিকশাচলক ও স্থানীয় জনতা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি ভবনে ভাঙচুর চালায়। পরে নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সেখানে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষুব্ধদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।