আদালতে মামুন খালেদ 

এক-এগারোতে তারেক রহমানের জামিনে সরাসরি ভূমিকা রেখেছি 

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালত এই আদেশ দেন। 

ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামির সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।  

রিমান্ড শুনানিকালে আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন মামুন খালেদ। তিনি বলেন, “এক-এগারোর সময় আমি কুমিল্লায় কর্মরত ছিলাম। সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামিনের ব্যাপারে আমি সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি।” 

আয়নাঘর প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার মেয়াদে কোনও অভিযোগ ছিল না এবং তিনি এ বিষয়ে একাধিকবার শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। জলসিঁড়ি প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, “নজরুল সাহেব নামে একজনের ১৫০০ কোটি টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল, আমি শুধু সেই উদ্ধার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলাম।” এছাড়া মামলার ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং দীর্ঘ সময় ধরে সিভিলিয়ান হিসেবে জীবনযাপন করছেন বলে জানান। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, “আসামি মামুন খালেদ এক-এগারোর অন্যতম কুশীলব ছিলেন। পরবর্তীকালে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে সহযোগিতা করায় পুরস্কারস্বরূপ তাকে ডিজিএফআই প্রধান করা হয়। তার আমলেই আয়নাঘর তৈরি করে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন ও পুড়িয়ে মারার মতো অপরাধ করা হয়েছে।” 

পিপি আরও অভিযোগ করেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাসা থেকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়ার নেপথ্যে ছিলেন এই মামুন খালেদ। তার নির্দেশেই গত ১৯ জুলাই মিরপুরে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়, যাতে দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। 

এছাড়া জলসিড়ি প্রকল্পের কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথাও তোলেন পিপি। যে-কারণে ইতোমধ্যে আদালত তার স্ত্রীসহ বিদেশযাত্রা নিষেধাজ্ঞা দেন বলে জানান ওমর ফারুক ফারুকী। 

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিন আবেদন করেন। তারা দাবি করেন, মামলার এজাহারে মামুন খালেদের নাম নেই এবং ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ২০১৬ সালে তিনি অবসরে গিয়েছেন এবং একজন পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে তিনি শুধু দায়িত্ব পালন করেছেন। খালেদা জিয়ার বাসা উচ্ছেদের সময় তিনি ‘অন ডিউটি’ কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি আদেশ পালন করেছিলেন মাত্র। 

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করতে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

এর আগে, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।