স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে গ্রেফতার সেই তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ পায়নি বলে প্রতিবেদন দিয়েছে ডিবি পুলিশ। ডিবি পুলিশের ঢাকা জেলার (দক্ষিণ) উপপরিদর্শক আব্দুল মুক্তালিব বুধবার (১ এপ্রিল) এ প্রতিবেদন জমা দেন। ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা সুলতানা সুইটি ডিবি পুলিশের প্রতিবেদন আমলে গ্রহণ করে তাহমিনাকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই ওবায়দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রতিবেদনে আব্দুল মুক্তালিব বলেছেন, তিন সন্তানের মা তাহমিনা আক্তার ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তার স্বামী প্রবাসী। তবে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না। বাবা-মা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। গত ২৬ মার্চ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাত ব্যক্তি ভুল বুঝিয়ে তাকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের উদ্দেশে ছবি তোলার জন্য তাকে দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ায়।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি না বুঝে তাহমিনা জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলেন উল্লেখ করে আব্দুল মুক্তালিব বলেন, প্রকৃতপক্ষে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না। রাষ্ট্রবিরোধী বা নাশকতামূলক কোনও কার্যক্রমে জড়িত নন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়া যায়নি। এ জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারার দায় থেকে তার অব্যাহতির প্রার্থনা করছি।
গত ২৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্মৃতিসৌধের ফোয়ারার সামনে থেকে তাহমিনাকে আটক করে পুলিশ। এ সময় ওই নারীর সঙ্গে তার তিন সন্তানও ছিল। পরদিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। সোমবারও (৩০ মার্চ) তার জামিন আবেদন নাকচ হয়।
এরই মাঝে অব্যাহতির সুপারিশ করে দেওয়া প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত তাহমিনাকে মুক্তির আদেশ দিলো। তাহমিনার আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম জানান, আদালত থেকে তার মুক্তির আদেশ এসেছে। আশা করছি, বৃহস্পতিবার তিনি কারামুক্ত হবেন।