‘বিদেশে জনশক্তি পাঠানোয় হয়রানি- প্রতারণা নির্মূলে কাজ করছে সরকার’

বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে হয়রানি ও প্রতারণা নির্মূলে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ৷

রবিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বারী সরদারের লিখিত এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এসব কথা জানান ৷

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের অষ্টম দিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, বিদেশে জনশক্তি প্রেরণে হয়রানি ও প্রতারণা নির্মূলে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। কর্মীদের অধিকতর সুরক্ষা, কল্যাণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো—

১. অবৈধ অভিবাসন সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা যাচাইসাপেক্ষে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩’ সালের আওতায় ফৌজদারি মামলা দায়ের অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সাজা প্রদান, রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, স্থগিত, জামানত বাজেয়াপ্ত, ক্ষতিপূরণ আদায়সহ বিভিন্ন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

২. বিদেশগামী, বিদেশ প্রত্যাগত এবং বিদেশে কর্মরত ব্যক্তির আবেদন বা নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে অভিবাসন সংক্রান্ত প্রাপ্ত অভিযোগ দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের ডিইএমও-গুলোতে অভিযোগ তদন্ত কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। ফলে অভিযোগকারীদের সময়, পরিদর্শন এবং যাতায়াত ব্যয় কমিয়ে দ্রুত সময়ে অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে ২০৫৪টি অভিযোগ নিষ্পত্তিপূর্বক ক্ষতিগ্রস্তদের ৯ কোটি ৯২ লক্ষ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেওয়া হয়েছে।

৩. বাংলাদেশ মিশনগুলোর শ্রম কল্যাণ উইংয়ের তত্ত্ববধানে পরিচালিত সেইফ হোমে বিপদগ্রস্ত নারীকর্মীদের উদ্ধার করে আশ্রয় প্রদান করা হয়।

৪. বিদেশে বিপদগ্রস্ত কর্মীদের থাকা-খাওয়া এবং পরবর্তীতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এর খরচে দেশে ফেরত আনা হয়।

৫. প্রবাসীকর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধে বাংলাদেশ মিশনসমূহের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, পুলিশ, ইমিগ্রেশন, আইনসেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ ও নিয়োগকর্তাসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের  সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এছাড়াও আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স কাজ করছে।

৬. সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের নিরাপত্তায় সে দেশের সঙ্গে চুক্তিতে কর্মীর সঙ্গে মোবাইল রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে— যাতে করে কর্মী যেকোনও সমস্যায় দুতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এবং পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে পারে।