যেসব কারণে কারাগারে ‘ডিভিশন’ চেয়েছেন শাহরিয়ার কবির

মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেফতার একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরকে কারাগারে ‘ডিভিশন’ (বিশেষ মর্যাদা) দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরে কারাগারে এই সুবিধা পেতে তার আইনজীবী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তবে আবেদনটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি কারাগারে ডিভিশন পাচ্ছেন কি না এর জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
 
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় সবশেষ গত ৫ এপ্রিল শাহরিয়ার কবিরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি লাঠিতে ভর করে পুলিশের সহযোগিতায় অনেকটা কুঁজো হয়ে হাঁটতে দেখা যায়। তার কোমরে বেল্ট পরিহিত ছিল। পুলিশ ভ্যান থেকে ট্রাইব্যুনালের আসামি ডক পর্যন্ত শাহরিয়ার কবিরকে পুলিশের সহযোগিতায় হাঁটতে দেখা গেছে।
 
ওই একইদিন শাহরিয়ার কবিরের ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী পি এম মেহেদী হাসান। তবে এ বিষয়ে শুনানি হলেও এখনও কোনও আদেশ দেননি ট্রাইব্যুনাল।

জানতে চাইলে আইনজীবী পি এম মেহেদী হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা কারাবিধির ধারা ৯১০ অনুযায়ী বেশ কয়েকটি যুক্তি দেখিয়ে ডিভিশনের আবেদন করেছি। তবে আবেদনটির বিষয়ে এখনও কোনও আদেশ পাইনি।’

কারণগুলো জানতে চাইলে মেহেদী হাসান বলেন, ‘তিনি (শাহরিয়ার কবির) একজন লেখক ও সাহিত্যিক। সাহিত্যিক হিসেবে তিনি বাংলা অ্যাকাডেমি পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন। তার পূর্বের জীবন-যাপন যে মানের ছিল, কারাভ্যন্তরের সাধারণ সেলে সেই মানের জীবন-যাপন সম্ভব হচ্ছে না। যেমন তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাইকমড ব্যবহার করতেন, বিছানায় ঘুমাতেন, কিন্তু কারাগারের সাধারণ সেলে তিনি হাইকমড ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছেন না, ফ্লোরে ঘুমাতে হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা খুব বেশি ভালো না হওয়ায় কারও সহযোগিতা ছাড়া তিনি ঠিকভাবে হাঁটতে বা দাঁড়াতেও পারছেন না।’

‘এক বছর সাত মাস ধরে তিনি কারাগারে আছেন। তাই সামাজিক ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তার ডিভিশন চাওয়া হয়েছে। এর আওতায় তিনি যেন অন্য সুযোগ–সুবিধাসহ একজন সেবক পান, সেটিও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে’, বলে জানান আইনজীবী।

এ মামলায় আরও চার জন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন– সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক ও পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্লা নজরুল ইসলাম।

গত ৩০ নভেম্বর এ মামলায় শাহরিয়ার কবিরকে ৫ এপ্রিল হাজিরের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল-১। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ। তিনি এ মামলার তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করেন। পরে আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্যও দিন নির্ধারণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি এ অভিযোগ করেন।

অভিযুক্তরা হলেন– সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক এমপি হাজী সেলিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহমেদ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, কমিটির সদস্য অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার, একাত্তর টিভির সাবেক সিইও মোজাম্মেল হক বাবু, সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, এবিনিউজ২৪ ডটকমের সম্পাদক সুভাস সিংহ রায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম খান, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও এনএসআইয়ের মনজুর আহমেদ।