রংপুরের আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অন্যান্য আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে, এ রায়ে খুশি নয় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। আপিলের কথা জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, “আমরা এই রায়ে সংক্ষুব্ধ। রায়ে শুধু চার্জের শিরোনাম বলা হয়েছে। কিন্তু, যুক্তিগুলো কী সেটা আলোচনায় আসেনি। যেমন ২০টির অধিক আর্গুমেন্ট বা রিটেন সামআপ করেছিলাম, সেই বিষয়গুলো কিন্তু এখানে ঘোষিত যেটুকু ‘সাবস্ট্যান্স অব দ্য ফাইন্ডিংস’ এবং ‘দ্য অপারেটিভ পার্ট অব দ্য জাজমেন্ট’ ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে কিন্তু আমরা এটা শুনতে পাইনি।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু ‘ডিগ্রি অব পানিশমেন্টটুকু’ শুনতে পেয়েছি। পরিপূর্ণ রায়টি পাওয়ার পরে বিচার-বিশ্লেষণ করে আপিল করবো। আমরা বিশ্বাস করি, আপিল শুনানি শেষে ন্যায়বিচার পাবো এবং আসামিদ্বয় (ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি) খালাস পাবেন।”
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রথম শহীদ হন তিনি। এই হত্যার ঘটনা ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে তীব্রভাবে বেগবান করে। আন্দোলন এতই তীব্র হয়েছিল যে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
আবু সাঈদের হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, তিন জনকে যাবজ্জীবন ও বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।