জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও কাঁচাবাজারে এখনও স্বস্তি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে পরিবহন খরচ ও ট্রাক ভাড়া বাড়লেও কাঁচাবাজারে এর বড় কোনও প্রভাব এখনও দেখা যায়নি। বেশিরভাগ সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে, আর কমেছে মুরগির দাম।

ব্যবসায়ীদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লেও তা এখনও বাজারে পুরোপুরি প্রভাব ফেলেনি। কয়েকটি পণ্য ছাড়া অধিকাংশ পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। যদিও পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বেড়েছে, তবুও তারা আশা করছেন বাজারদর আপাতত স্থিতিশীল থাকবে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। 

সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো গত সপ্তাহের মতোই ৩০-৪০, গাজর ৩০-৪০ থেকে বেড়ে ৫০-৬০, ঝিংগা ৭০-৮০ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০, চালকুমড়া (আকারভেদে) ৫০-৬০ টাকা থেকে কমে ৩৫-৪০, কাঁচাকলা আগের মতোই ২৫-৩০, সজনে ৭০-৮০ থেকে বেড়ে ৯০-১০০, শসা আগের মতোই ৪০-৫০, লেবুর হালি ২৫-৩০, চিকন বেগুন ৬০-৭০, গোল বেগুন ৭০-৮০, পটল ৭০-৮০ থেকে কমে ৫০-৬০, ঢেঁড়শ ৬০-৭০ থেকে কমে ৪০-৫০, শিম আগের মতোই ৭০-৮০, পেঁপে ৩৫-৪০, বরবটি ৭০-৮০ থেকে কমে ৪০-৫০, করলা ৮০-১০০ থেকে কমে ৫০-৬০, লাউ (আকারভেদে) ৬০-৭০ থেকে কমে ৪০-৫০, কচুরলতি ৭০-৮০, প্রতিকেজি ধনেপাতা ৭০-৮০ থেকে কমে ৪০-৫০, সব ধরনের শাকের আঁটি ১০-১৫, কাঁচা মরিচ ৫০-৬০ থেকে কমে ৩৫-৪০ এবং পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে, দেশি আদা ১৬০-১৮০ থেকে কমে ১৫০-১৬০, আমদানি করা আদা ১৪০-১৫০, দেশি রসুন ৮০-১০০ এবং আমদানি করা রসুন ২৫০-২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নারিন্দা বাজারের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদউল্লাহ বলেন, তেল গ্যাসের দামের প্রভাব বাজারে এখনও পড়েনি। সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু সবজির দাম কমেছে। অনেক সবজির দাম একটু বাড়লেও সব মিলিয়ে বাজার এখনও স্থিতিশীল। 

রায়সাহেব বাজারে আসা রহিম নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘‘তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে তাড়াহুড়ো করে বাজার করতে এসেছি। তবে এসে দেখি বাজারে এর কোনও প্রভাব এখন পর্যন্ত পড়েনি। অধিকাংশ সবজি আমাদের অনুকূলে রয়েছে। এজন্য ভালো লাগছে।’’ 

এদিকে, খুচরা বাজারে হালি প্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, যা গত সপ্তাহে ৩৮-৪০ টাকা ছিল। এছাড়া প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা থেকে কমে ১৭০-১৮০, পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ৩৮০-৩৯০ টাকা থেকে কমে ৩৪০-৩৫০, পাকিস্তানি হাইব্রিড ৩৫০-৩৬০ টাকা থেকে কমে ৩২০-৩৩০, পাকিস্তানি লেয়ার ৩৩০-৩৪০ এবং দেশি মুরগি ৬০০-৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কলতা বাজারের ডিম বিক্রেতা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজারে দাম নির্ভর করে সরবরাহের ওপর। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হলে দাম বেড়ে যায়।

রায়সাহেব বাজারের মুরগি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, তেল এবং গ্যাসের দামের প্রভাব এখনও মুরগির বাজারে পড়েনি। বরং গত সপ্তাহের তুলনায় সব ধরনের মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। আর তাই মুরগি বিক্রি হচ্ছে বেশি। 

একই বাজারে মুরগি কিনতে আসা মোজাম্মেল বলেন, ‘‘ভেবেছিলাম তেল গ্যাসের দামের প্রভাবে মুরগির দাম বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি আগের চেয়েও দাম কম। তাই স্বস্তিতে কিনতে পারছি।’’