নতুন ভাড়া কার্যকর হয়নি, আজও চলছে আগের মতোই

রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ গণপরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়। পূর্ব দিকে বনশ্রী হয়ে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, উত্তরে বাড্ডা, বসুন্ধরা হয়ে আব্দুল্লাহপুর, আর দক্ষিণে মালিবাগ পল্টন হয়ে গুলিস্তান। কথা হয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। তারা জানান, সরকার বাস ভাড়া বাড়ালেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর করেনি তারা। মালিক সমিতি আলোচনা করলেও গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের জানায়নি।

গাবতলী থেকে ডেমরা রুটে চলাচলকারী অছিম পরিবহনের রোড সুপারভাইজার ওসমান গনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যেভাবে তেলের দাম বাড়ানো হলো, তাতে গাড়ি ভাড়া বাড়ানো হলো প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা। এটা একটা অবাস্তব সিদ্ধান্ত। 

তিনি বলেন, রামপুরা ব্রিজ থেকে ডেমরা ভাড়া ২৮ টাকা। আমরা নিই ২৫ টাকা। এখন আমরা কত নেবো। প্রতিটি রুটে মালিকপক্ষ হিসাব করে তারপর নির্ধারণ করবে।

কথা হয় আলিফ পরিবহনের রোড সুপারভাইজার আলামিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, সত্যি বলতে কী, সব চাপ পরিবহনের ওপর। কিন্তু আমাদের দুঃখ কেউ বোঝে না।

তিনি বলেন, ভাড়া আমরা আগের মতোই নিচ্ছি। ভাড়া বাড়লেও শুনতেছি তেলের দাম নাকি আরও বাড়বে। এ কারণে মালিক সমিতি অপেক্ষা করতেছে।

তিনি প্রশ্ন করেন, ভাড়া যে ১১ পয়সা বাড়ালো এটা কীভাবে। আমাদের গাড়িতে স্টুডেন্টরাও থাকে। সকাল- সন্ধ্যা সব সময়।  আগে শুক্রবার ও শনিবার ফুল ভাড়া ছিল। কিন্তু বিগত সরকার এটার পরিবর্তন করে সপ্তাহে ৭ দিন যেকোনও সময় আইডি কার্ড দেখালে ভাড়া অর্ধেক। এটা তো আমাদের জন্য লস। তারপরও আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। আগের ভাড়াতে আছি।

ডেমরাগামী যাত্রী আব্দুল্লাহ জানান, আজও আগের ভাড়াই চলছে। বেশি নেয়নি। আরেক যাত্রী আলমগীর হোসেনও জানালেন, নতুন ভাড়া আজও কার্যকর হয়নি। পুরোনো ভাড়াতেই যাতায়াত করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু এই রুটই নয়, গুলিস্তান থেকে আব্দুল্লাপুর, শাহবাগ হয়ে মিরপুর, গাবতলী সব রুটেই আগের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। নতুন ভাড়া ঘোষণা হলেও এখনও কার্যকর করেনি মালিক সমিতি। 

গুলিস্তান থেকে আব্দুল্লাপুরের বর্তমান ভাড়া ৪৫/৫০ টাকা। যাত্রীদের কাছ থেকে সেটাই নেওয়া হচ্ছে। মিরপুরের ভাড়াও আগের মতোই।

গুলিস্তান থেকে আব্দুল্লাপুর রুটে চলাচলকারী ভিক্টর পরিবহনের গাড়িচালক জামাল হোসেন বলেন, ভাড়া বাড়ানো হলেও আমরা এখনও কার্যকর করিনি। আমাদের লোকজন আলোচনা করছেন।

তিনি বলেন, তেলই তো পাচ্ছি না। তেলের অভাবে অনেক গাড়ি এখন বসা। সংকট দূর করানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনও আলাপ-আলোচনা চলছে। শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে  বাসভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে যাত্রীদের প্রতি কিলোমিটারে আগের তুলনায় ১১ পয়সা বেশি ভাড়া গুনতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাস মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মিটিং শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের পর সরকার বাসভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।