ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমিতে গাজীপুর সিটি কপোরেশনের আবর্জনা স্তূপকরণের জন্য সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ সংক্রান্ত সব কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে গাজীপুর সিটি কপোরেশনকে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন এলাকায় বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকারও আদেশ দেন আদালত।
সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ রুলটি জারি করেন।
অন্তর্বর্তী এ আদেশের পাশাপাশি আদালত গাজীপুর সিটি কপোরেশন কতৃর্ক জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমিতে অননুমোদিতভাবে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ এবং জাতীয় উদ্যানের মূল ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে ক্রমাগত বর্জ্য ফেলা বন্ধে বিবাদীদের ব্যর্থতা সংবিধান এবং প্রচলিত আইনের পরিপন্থি হওয়ায় কেন তা আইন বহির্ভূত ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে বিবাদীদের ওপর রুল জারি করেছেন।
একইসঙ্গে উল্লিখিত উদ্যান ও বনের ক্ষতি সাধন করায় কেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদফতরকে এই উদ্যান ও বনের সীমানা যথাযথভাবে নির্ধারণ, বন ও উদ্যানের প্রাকৃতিক বনভূমি এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল পুনরুদ্ধার ও সমৃদ্ধকরণ, উদ্যানে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে বন ও উদ্যানকে রক্ষার নির্দেশ কেন প্রদান করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে উদ্যানের মূল ফটকসহ সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত বর্জ্য ডাম্পিং করে আসছিল। এসব বর্জ্য একদিকে যেমন উদ্যানের পরিবেশ, প্রতিবেশ ব্যবস্থা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল, অপরদিকে মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছিল। ইতোপূর্বে বন অধিদফতরের হস্তক্ষেপে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃক বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয়।
সম্প্রতি বন অধিদফতরের সব বাধা উপেক্ষা করে সিটি করপোরেশন পুনরায় বর্জ্য ডাম্পিং শুরু করে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য উদ্যান সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমিতে অননুমোদিতভাবে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বনভূমিতে এসটিএস নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ জানালেও বিষয়টি আমলে না নিয়ে— গাজীপুর সিটি করপোরেশন সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বেলা ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের পরিবেশ, প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় মামলাটি দায়ের করে।
মামলার বিবাদীগণ হলেন— স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (স্থানীয় সরকার বিভাগ) ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ও গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক, বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারি বন সংরক্ষক ও জাতীয় উদ্যান রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার (বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ), গাজীপুর জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, গাজীপুর সিটি কপোরেশনের প্রশাসক ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী এবং তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট রুমানা শারমিন ও এডভোকেট তৌহিদুল আলম।