শীতলক্ষ্যার তীরে ২০ কারখানার বিদ্যুৎ-গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন, হাইকোর্টে প্রতিবেদন

ইটিপি ছাড়া পরিচালিত নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ২০ শিল্প কারখানার বৈদ্যুতিক ও গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

শনিবার (৯ মে) রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ২০টি শিল্প কারখানা ইটিপি ছাড়া পরিচালিত হয়ে পানি দূষণ করছে—এ অভিযোগে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষ থেকে রিটের পরিপূরক আবেদন করা হয়। গত ৫ মার্চ ওই আবেদনে এসব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। আবেদনটির শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০ প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন।

আদালতের সেই আদেশের প্রেক্ষিতে গত ৭ মে বিআইডব্লিউটিএ হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযুক্ত ২০ প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটির ওপর শুনানি হয়। পরে আদালত শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণের ক্ষতির পরিমাণ টাকায় নির্ধারণ সংক্রান্ত পূর্বের আদেশ অনুযায়ী নতুন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন এবং দাখিলকৃত প্রতিবেদনটি নথিভুক্ত করেন।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, আর এস কে ডাইং, খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল, এসআরএস নিড ডাইং, মেসার্স রুবেল ডাইং, বাংলাদেশ ডাইয়িং অ্যান্ড প্রসেসিং, মেসার্স সোহেল ডাইং, এশিয়ান ফেব্রিক, জিলানী ডাইং, গাজীপুর বোর্ড মিলস, নিউ আলম ডাইং, মায়ের দোয়া ডাইং, এম আর ডাইং, আব্দুর রব ডাইং, বিসমিল্লাহ নিড ডাইং, শিমুল ডাইং, রাজ্জাক ওয়াশিং, কর্ণফুলী টেক্সটাইল মিল এবং হাজী রাসুল ডাইং।

আদালতে শুনানিকালে এইচআরপিবির পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, পরিবেশ আইন অনুযায়ী ইটিপি ছাড়া শিল্পকারখানা পরিচালনা দণ্ডনীয় অপরাধ। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠান আইন অমান্য করে নদী দূষণ করছে। আদালতের নির্দেশের আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 

শুনানিতে তিনি দূষণের ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়েও আবেদন জানান। 

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল। বিআইডব্লিউটিএর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ শফিকুর রহমান।