কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনার জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় একটি খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারির পর এক পক্ষ রেলপথ অবরোধ করে রাখায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অন্তত পাঁচটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে বিলম্বিত বা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (৫ জুন) রাত সোয়া ১২টার দিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের দেওয়া বার্তায় জানানো হয়েছে, ভৈরব স্টেশনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে নিম্নলিখিত ট্রেনসমূহ বিভিন্ন স্টেশনে বিলম্বিত অবস্থায় রয়েছে:
১. ৭০৩ নং মহানগর গোধূলি: রাত ৯টা ১৫ মিনিট থেকে ভৈরব আউটসাইডে (স্টেশনের বাইরে) অবস্থান করছে।
২. ৭১০ নং পারাবত এক্সপ্রেস: রাত ৯টা ৩৩ মিনিট থেকে তালশহর স্টেশনে আটকে আছে।
৩. ৭৪৯ নং এগারোসিন্ধুর গোধূলি: রাত ৯টা ২২ মিনিট থেকে দৌলতকান্দি স্টেশনে অবস্থান করছে।
৪. ৬০৬ নং কন্টেইনার ট্রেন: রাত ৯টা ৩৫ মিনিট থেকে মেথিকান্দা স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে।
৫. নরসিংদী কমিউটার ট্রেন: রাত ৯টা ৩৮ মিনিট থেকে খানাবাড়ী স্টেশনে অবরুদ্ধ রয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং রেলপথ থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। বার্তায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ক্লিয়ারেন্স (অনুমতি) প্রাপ্ত হলেই ট্রেন অপারেশন পুনরায় চালু করা হবে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় খেলাধুলার বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর ক্ষুব্ধ এক পক্ষ রাত ৯টা ১০ মিনিট থেকে ভৈরব স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় রেলপথ অবরোধ করে রাখে। এর ফলে বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেনগুলো ঝূঁকির মুখে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। মাঝরাস্তায় ট্রেনগুলো আটকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো সাধারণ যাত্রী।