সরকারি উদ্যোগের পরও দেশে কমেনি প্লাস্টিক বর্জ্যের দৌরাত্ম্য। বরং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বিস্তার পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্রমেই বড় হুমকি হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কার্যকর বিকল্প নিশ্চিত না করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
পরিবেশবাদী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) সর্বশেষ গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার ও দূষণ এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৮৭ হাজার টন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, যার ৯৬ শতাংশই খাদ্য ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যের মোড়ক থেকে আসে। এসব বর্জ্যের একটি বড় অংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয় এবং শেষ পর্যন্ত নদী, খাল, জলাশয় ও সমুদ্রে গিয়ে পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।
এসডো জানিয়েছে, দেশে বছরে ৩১৫ থেকে ৩৮৪ কোটি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বোতল ব্যবহৃত হয়, যার মাত্র ২১ দশমিক ৪ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করা হয়। বাকি ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ নদী, সমুদ্র ও ল্যান্ডফিলে দূষণ ছড়ায়। সংস্থাটির মতে, প্লাস্টিক দূষণ শুধু পরিবেশ নয়, জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য এবং জলাবদ্ধতা সমস্যাকেও ক্রমশ তীব্র করে তুলছে।
সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, একজন দোকানদার প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০টি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করেন। সব দোকান বিবেচনায় নিলে মোট পলিথিন বিতরণের বড় একটি অংশ দোকানদারদের মাধ্যমেই বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। জরিপে আরও দেখা যায়, প্রায় ৬৩ শতাংশ দোকানদার জানেন পলিথিন নিষিদ্ধ, কিন্তু কার্যকর বিকল্প না থাকায় তারা এখনও এটি ব্যবহার ও বিক্রি করছেন।
এপ্রিল মাসে পরিচালিত আরেক জরিপে দেশের বিভিন্ন বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৮৩ শতাংশ মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক-সংশ্লিষ্ট রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, এসব উপাদান শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, হরমোনজনিত সমস্যা, প্রজনন জটিলতা এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।