গৃহপরিচারিকা প্রীতি উড়ানের ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র অভিযোগে করা মামলায় দ্য ডেইলি স্টারের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক এবং তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ।
মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকার মহানগর এলাকার সংশ্লিষ্ট আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন আদালত।
গত ৩১ মার্চ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি উপযুক্ত আদালতে বদলির নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান।
তেজগাঁও জোনের ডিবি পুলিশের এসআই এস এম মাহমুদ রেজা তদন্ত শেষে আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, গৃহকর্মী প্রীতি উড়ানের মৃত্যুর ঘটনায় সৈয়দ আশফাকুল হক ও তার স্ত্রী খন্দকার খাদিজা-তুল-কোবরা তানিয়া খন্দকারের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় সাক্ষী রাখা হয়েছে ১৯ জনকে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রীতি উড়ান (১৫) প্রায় দুই বছর ধরে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বহুতল ভবনের অষ্টম তলায় অবস্থিত ফ্ল্যাটে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো। ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই ফ্ল্যাটের ড্রইং স্পেসের জানালার নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় কাঁচের ফাঁক দিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে। পরে তার মৃত্যু হয়।
তদন্তে আরও উঠে আসে, এর আগেও একই বাসায় আরেক গৃহকর্মী ফেরদৌসী জানালা দিয়ে নিচে পড়ে আহত হয়েছিলেন। এরপরও জানালায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার আলামত, ডিএনএ পরীক্ষা, ভিসেরা রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তদন্ত কর্মকর্তা মত দেন যে, অরক্ষিত জানালার কারণেই প্রীতি উড়ানের মৃত্যু হয়।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মত দেন, উচ্চতা থেকে পড়ে গুরুতর আঘাতজনিত শকের (নিউজরোজেনিক হাইপোসথেনিক শক) কারণে প্রীতির মৃত্যু হয়েছে।
এসআই মাহমুদ রেজা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, তদন্তে সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত, ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় সৈয়দ আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকারের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪এ ধারায় (অবহেলাজনিত মৃত্যু) অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
পরে উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা, তেজগাঁও বিভাগ) অভিযোগপত্র দাখিলের সুপারিশের সঙ্গে একমত পোষণ করলে দুই আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪এ ধারায় অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়।