যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে এক ধরনের জামানতের শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা ‘ভিসা বন্ড’ নামে পরিচিত। গত বছরের আগস্টে এই বন্ড চালুর ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন নীতির আওতায় এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা আবেদনের সময় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দিতে হতে পারে।
ভিসা বন্ড কী
ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত। কোনো দেশের সরকার নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের অস্থায়ী ভিসা দেওয়ার আগে এ ধরনের বন্ড নিতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, ভিসাধারীরা যেন ভিসার শর্ত মেনে চলেন, বিশেষ করে নির্ধারিত সময় শেষে দেশটি ত্যাগ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর শিক্ষার্থী, পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের বিপুলসংখ্যক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে বি-১ (ব্যবসা) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসা। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে কেউ অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে তা ‘ভিসা ওভারস্টে’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা মার্কিন অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের বি-১ ও বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হলে সর্বোচ্চ তিন স্তরের যেকোনো একটি বন্ড জমা দিতে হতে পারে—৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলার।
আবেদনকারী বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে ভিসার জন্য আবেদন করলেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অবস্থা বিবেচনা করে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। ভ্রমণের উদ্দেশ্য, চাকরি, আয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা—এসব বিষয় এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কীভাবে দেবেন ও ফেরত পাবেন
সোমবার (৮ জুন) এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য ‘ভিসা বন্ড’ আরোপ করা হয়েছে। ভিসা পাওয়ার যোগ্য হলে আবেদনকারীকে সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড পরিশোধ করতে হবে। তবে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন ভিসা অফিসার।
ভিসা সাক্ষাৎকারের পর যোগ্য বিবেচিত হলে কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীকে pay.gov-এর সরাসরি লিংকসহ পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন। ৩০ দিনের মধ্যে বন্ডের অর্থ জমা দিতে হবে। এরপর সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা দেওয়া হবে। নির্ধারিত কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে।
দেশে ফিরে আসার পর ভিসার সব শর্ত পূরণ হলে বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে এজন্য আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের কাজ করা যাবে না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরতে হবে।