সংসদ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির ব্যাখ্যা

‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়ার পর নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

মঙ্গলবার (৯ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, তাদের গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়াকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছে। এসব আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া টিআইবির গবেষণা ও জনস্বার্থভিত্তিক কর্মকাণ্ডকে আরও ফলপ্রসূ করতে সহায়ক হবে বলেও মনে করে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথার্থই উল্লেখ করেছেন— টিআইবি কোনও তদন্তকারী সংস্থা নয়। টিআইবি মূলত গবেষণাভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী ও সুশাসন-সংক্রান্ত একটি প্রতিষ্ঠান, যা জনসচেতনতা, জনসম্পৃক্ততা এবং নীতিগত সংস্কারের পক্ষে কাজ করে।

সংস্থাটি জানায়, সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণায় স্বীকৃত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে তারা গুণগত ও পরিমাণগত তথ্য সংগ্রহ করে। বিভিন্ন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের যথার্থতা একাধিক ধাপে যাচাই-বাছাইয়ের পর বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।

টিআইবির দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কিত যেসব তথ্য তাদের প্রতিবেদনে ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলোর উৎস বাংলাদেশ পুলিশ এবং তিনটি সুপরিচিত মানবাধিকার সংগঠন। প্রতিবেদনে এসব তথ্যসূত্র স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রতিবেদনটি কেবল পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়েছে— এমন মন্তব্যের কোনও ভিত্তি নেই বলে মনে করে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গবেষণার অংশ হিসেবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সংগ্রহ করা হলেও তা সরাসরি ব্যবহার করা হয় না। বরং সংশ্লিষ্ট সরকারি, বেসরকারি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের পরই তা বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই টিআইবির গবেষণাকে ‘পত্রিকার কাটিংনির্ভর’ বলে আখ্যায়িত করা মূল বিষয় থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা বলেও উল্লেখ করা হয়।

টিআইবি প্রশ্ন রেখে বিবৃতিতে বলেছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জনপ্রতিনিধি, সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কি নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না? নিজেদের কার্যক্রম ও অবস্থান জনসমক্ষে তুলে ধরতেও তো তারা গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে। সে বিবেচনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে সামগ্রিকভাবে অবমূল্যায়নের কোনও যৌক্তিকতা নেই।

পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গে টিআইবি জানায়, সংবাদ সম্মেলনে তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক— এই মূল পর্যবেক্ষণের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেনি। তবে অতীতের বিভিন্ন মেয়াদের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণের যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে, তা এই গবেষণার পরিধির বাইরে ছিল। ফলে এ বিষয়ে মন্তব্য করা গবেষণার উদ্দেশ্য ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি।