কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দেশে ফিরেছেন। বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কম্বোডিয়ায় নিয়ে গিয়ে সাইবার প্রতারণার কাজে জোরপূর্বক নিয়োজিত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
রাত ১টা ২৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানিয়েছে, দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে প্রত্যেককে জরুরি সহায়তা এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ফেরত আসা ভুক্তভোগীদের একজন ঢাকার শাহিনুর রহমান (ছদ্মনাম) জানান, বৈধ প্রক্রিয়ায় ভালো চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালাল চক্রের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে তাদের চীনা নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।
ভুক্তভোগীরা জানান, এসব কম্পাউন্ডে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার প্রতারণায় অংশ নিতে বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শিকার হতে হতো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের।
সাম্প্রতিক সময়ে কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
এর আগে একই ধরনের ঘটনায় চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। তাদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপর ভয়াবহ নির্যাতনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সাইবার জালিয়াতির কাজে বাধ্য করা হতো।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, “সাইবার স্ক্যাম মানবপাচারের একটি ভয়াবহ রূপ। কম্পিউটার অপারেটর, টাইপিস্ট, কল সেন্টার অপারেটরসহ বিভিন্ন পদে আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ইমেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো অনলাইন মাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। পরে চাকরিপ্রত্যাশীদের স্ক্যাম সেন্টারে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রতারণামূলক কাজে নিয়োজিত করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, এ কারণে সরকার ও ব্র্যাকের পক্ষ থেকে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম এবং কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিদেশগামী কর্মীদের চাকরির সত্যতা যাচাই, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সাইবার স্ক্যাম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।