‘সামাজিক আন্দোলন ছাড়া মানবপাচার ও অনিরাপদ অভিবাসন রোধ সম্ভব নয়’

সরকার ও সমাজের সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া একক কোনও মন্ত্রণালয় বা প্রকল্পের পক্ষে মানবপাচার রোধ করা সম্ভব নয়। এছাড়া সংঘবদ্ধ পাচারচক্রকে নিশ্চিহ্ন করতে দেশে কঠোর আইনি কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। 

সোমবার (১৫ জুন) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহায়তায় এবং ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম পরিচালিত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এক জেলা পর্যায়ের কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।

তিনি বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সরকার, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, উন্নত জীবনের আশায় অনেক মানুষ দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে সমুদ্রপথে অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা উদ্বেগজনক। এতে অনেকেই জীবন হারাচ্ছেন, নিখোঁজ হচ্ছেন কিংবা বিদেশে গিয়ে শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

ফরিদা খানম বলেন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও বৈধ অভিবাসন মানুষের অধিকার হলেও অবৈধ অভিবাসন মানুষকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। তাই এ বিষয়ে মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ কোনও একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা এবং গণমাধ্যমসহ সব অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং দালাল চক্রের অপতৎপরতা সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।

জেলা প্রশাসক জানান, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন আইন, নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে এসব উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে আরও সমন্বিত কার্যক্রম, তথ্য বিনিময় এবং জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও সুপারিশ মানবপাচার প্রতিরোধে কার্যকর করণীয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে ঢাকার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, মানবপাচার বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম কীভাবে সমন্বিত পদ্ধতিতে পরিচালনা করা যায়, তা নিয়ে আমাদের সবাইকে ভাবতে হবে। মানবপাচার সংক্রান্ত অপরাধ ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আমাদের আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক প্রবীর দত্ত বলেন, অনেকেই বিপদে পরার পর বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার তথ্য জানতে কার্যালয়ে আসেন, আগে আসেন না। 

ঢাকা জেলার ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর মো. বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন, ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সেন্টার ম্যানেজার মুন্নাজা মাহিন এবং কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন কর্মসূচির ম্যানেজার শায়লা শারমিন। কর্মশালায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা মানবপাচার ও অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি কমাতে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং মানবপাচার প্রতিরোধে সারা দেশেই সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছে।