খুলনায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তের ঘটনায় আসকের উদ্বেগ

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় নদী পুনঃখনন কাজে উত্তোলিত মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ির পাশে ও ওপরে ফেলায় শতাধিক পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একারণে তাদের বসবাস অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) গণমাধ্যম পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এ উদ্বেগ প্রকাশ করে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, নদী পুনঃখনন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ হলেও কোনও উন্নয়ন কার্যক্রম মানুষের জীবন, আবাসন, নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে বিপন্ন করে পরিচালিত হতে পারে না। সংবাদে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খননকৃত মাটির চাপে ঘরবাড়িতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, টিউবওয়েল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে অবস্থান করছে। এসব ঘটনা প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনার ঘাটতি, ঝুঁকি মূল্যায়নের অভাব এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো— যেসব পরিবার একসময় ভূমিহীন ও গৃহহীন ছিল এবং রাষ্ট্রের সহায়তায় পুনর্বাসিত হয়েছে, তারাই আবারও বাস্তুচ্যুতি ও অনিরাপদ জীবনের আশঙ্কার মুখে পড়েছে। একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে অন্য একটি রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুতর ব্যর্থতার পরিচায়ক।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে নাগরিকের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে এবং ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে ব্যক্তি-নিরাপত্তা ও আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার। কাজেই, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো জনগণের এই অধিকারগুলোকে সম্মান, সুরক্ষা ও নিশ্চিত করা।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলো মেরামত বা পুনর্নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত টিউবওয়েল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।