রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে পেশাদার নারী চালকদের প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির অধীনে ‘চালকের আসনে নারী: সাফল্য উদযাপন, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবহন খাত’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করা ১১তম ব্যাচের ১০ জন নারী চালকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ তুলে দেওয়া হয়।
হাবিবুর রশিদ বলেন, ইচ্ছা ও সুযোগ থাকলে সব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব—ব্র্যাকের এই আয়োজন তার প্রমাণ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের ভিত্তিতে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, নানা বৈষম্য ও সামাজিক বাধা অতিক্রম করে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা এই নারীরা আজ গাড়ির স্টিয়ারিং ধরেছেন। স্টিয়ারিং ধরা মানে শুধু গাড়ি চালানো নয়, তারা দেশের অর্থনীতি ও পরিবহন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন।
তিনি বলেন, নারীরা স্বভাবগতভাবেই তুলনামূলকভাবে নিয়মকানুন মেনে চলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, যা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একইসঙ্গে দেশে ও বিদেশে নারী চালকদের চাহিদা বাড়ছে উল্লেখ করে গাড়ির মালিকদের প্রতি তাদের সম্মানজনক মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ বলেন, দক্ষতা ও সক্ষমতার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ চালকদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। ব্র্যাকের নিজস্ব পরিবহন বহরে বর্তমানে ২৪ জন নারী চালক কর্মরত আছেন।
তিনি বলেন, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এই নারীদের ‘কেয়ার গিভিং’ বা ‘হাউজহোল্ড হেল্প’-এর মতো বহুমুখী দক্ষতা দেওয়া গেলে তারা দেশের বাইরে আরও ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
এ সময় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও সরকারি ট্রান্সপোর্ট পুলে এসব নারী চালককে নিয়োগ দেওয়ার জন্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ব্র্যাকের ‘ফোর হুইলস টু ফ্রিডম’ উদ্যোগের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১৭৯ জন সুবিধাবঞ্চিত নারী পেশাদার চালক হিসেবে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এছাড়া ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি নারী অপেশাদার ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করা ১০ জন নারী তিন মাসের নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ড্রাইভিং শেখার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা এবং জেন্ডার ও সুরক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য আন্না মিনজ এবং কর্মসূচির প্রকল্প ব্যবস্থাপক এম খালিদ মাহমুদ প্রমুখ।