‘রাজনীতিতে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ সীমিত’

রাজনৈতিক দলের সংগঠন এবং স্বাধীন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নারী রাজনৈতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকার একটি হোটেলে ‘রাজনৈতিক অভিজাত, ক্লায়েন্টেলিজম, গণতন্ত্রীকরণ ও শাসন: অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও নারীর অংশগ্রহণের পথসমূহ’ শীর্ষক ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুংয়ের (এফইএস) সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল, অংশগ্রহণকারীদের রাজনৈতিক অভিজাত, ক্লায়েন্টেলিজম, গণতন্ত্রীকরণ, শাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে গভীরতর ধারণা নেওয়া এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে সমালোচনামূলক আলোচনা উৎসাহিত করা।

আয়োজনে সিজিএস’র সভাপতি জিল্লুর রহমান নারীর জনসংখ্যাগত শক্তি ও তাদের সীমিত রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে বৈপরীত্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ এবং ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হলেও তাদের অর্থবহ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। গণতন্ত্রকে শুধু নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয় বরং বিভিন্ন মতাদর্শের রাজনৈতিক কর্মীদের সম্মিলিতভাবে রাজনৈতিক অধিকার ও নেতৃত্বে অগ্রসর করার আহ্বান জানান।

কর্মশালার নেতৃত্ব দেন শাম্মী লায়লা ইসলাম। তিনি অংশগ্রহণকারীদের দলীয় শাসন, গণতন্ত্রীকরণ, রাজনৈতিক অভিজাত, ক্লায়েন্টেলিজম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি নিয়ে ইন্টারেক্টিভ আলোচনায় যুক্ত করেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, নারীর প্রতিনিধিত্ব সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধি পেলেও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা এখনও তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ সীমিত করছে। অংশগ্রহণকারীরা তাদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, বিকেন্দ্রীকরণ ও দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের বাস্তব উদাহরণ দিয়ে তিনি দেখান, কীভাবে কেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব, পৃষ্ঠপোষক নেটওয়ার্ক ও অভিজাত নিয়ন্ত্রণ দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রার্থী নির্বাচন ও নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্বের সুযোগকে প্রভাবিত করে।