লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় দেশটি থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরছেন। বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর ৫টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করছে দূতাবাস। প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ১১১ জন ত্রিপোলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার এবং ৬৩ জন বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন।
লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ ত্রিপোলির মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রত্যাবাসিত অভিবাসীদের বিদায় জানান। এসময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) এবং প্রথম সচিব (শ্রম) উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএম-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
প্রত্যাবাসনকালে রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিং করেন। এসময় তিনি তাদের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন এবং প্রত্যাবাসন-পরবর্তী বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি সবাইকে নতুনভাবে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত অনিয়মিত অভিবাসনের ফলে সৃষ্ট দুর্ভোগ এবং আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির বিষয়গুলো অন্যদের কাছে তুলে ধরে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ভবিষ্যতে নিয়মিত ও বৈধ পথে বিদেশ গমনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।ৎ
এছাড়া, মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের জন্য প্রত্যাবাসিতদের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবর্তনে আগ্রহী এবং বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে দূতাবাস লিবিয়া সরকার, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখছে।