শাহজালালে ভিজছে আমদানি পণ্য, ক্ষতির শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

টানা বৃষ্টিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে খোলা আকাশের নিচে রাখা কোটি কোটি টাকার আমদানি পণ্য ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, কার্গো ভিলেজে পর্যাপ্ত গুদাম না থাকা এবং গত বছরের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্থায়ী কার্গো টার্মিনাল এখনো পুরোপুরি চালু না হওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেক পণ্য খোলা জায়গায় রাখতে হচ্ছে। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বলছে, বৃষ্টিপাত প্রাকৃতিক বিষয়। এ ছাড়া সময়মতো পণ্য খালাস না হওয়ায়ও কার্গো এলাকায় চাপ তৈরি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে অব্যবস্থাপনা, গুদামসংকট এবং পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহ, উৎপাদন এবং সামগ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

তাদের ভাষ্য, কয়েক মাস আগে কার্গো টার্মিনালের একটি শেড আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নয় মাসেও সেটি পুরোপুরি সংস্কার করে চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে গুদামসংকট দেখা দেওয়ায় অনেক আমদানি পণ্য খোলা জায়গায় রাখতে হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে এসব পণ্যের একটি অংশ ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি খায়রল কবির ভুঁইয়া মিঠু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের আমদানি করা কোটি কোটি টাকার পণ্য যদি এভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে এর দায় কে নেবে? খোলা আকাশের নিচে মাটিতে পণ্য পড়ে থাকলে নিচ থেকে পানি উঠবে, ওপর থেকে বৃষ্টির পানি পড়বে—এটাই স্বাভাবিক। নয় মাস পেরিয়ে গেলেও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত শেড সংস্কার করে চালু করা যায়নি, এটি বড় ধরনের ব্যর্থতা।’

তিনি বলেন, পরিস্থিতি দেখতে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ ঘটনাস্থলে আসেননি। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করে বিকল্প সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।

ব্যবসায়ীদের মতে, বিমানপথে সাধারণত উচ্চমূল্যের, জরুরি ও সংবেদনশীল পণ্য আমদানি করা হয়। এসব পণ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা না গেলে শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে দেশের বাণিজ্য পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো শেড দ্রুত সংস্কার, আমদানি পণ্যের নিরাপদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা, দ্রুত পণ্য খালাস, কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা তো প্রকৃতির ব্যাপার। এখানে কারও হাত নেই।’

তিনি বলেন, ‘অনেক আমদানিকারক সময়মতো মালামাল খালাস করেন না। ফলে কার্গো এলাকায় পণ্যের চাপ বেড়ে যায় এবং কিছু পণ্য খোলা জায়গায় রাখতে হয়। বৃষ্টি হলে সেগুলো ভিজে যায়।’