সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারের মধ্যে মূলত শব্দগত পার্থক্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সংশোধনীর মাধ্যমেই রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে কতটুকু পরিবর্তন হবে এবং কোন কোন বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হবে, সেটিই মূল প্রশ্ন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন এবং এতে বিরোধী দলের সদস্যের নাম না থাকার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিরোধী দলের উচিত কমিটির আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং তাদের প্রস্তাব সংসদের ভেতরে তুলে ধরা।
তিনি বলেন, ‘‘সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার—এটি মূলত শব্দের বিষয়। আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কতটুকু পরিবর্তন করতে চাই। সংশোধনীর মাধ্যমেই সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।’’
অতীতের বিভিন্ন সংশোধনীর উদাহরণ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের বহু অংশে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়। পরে আদালতের রায়ে ওই সংশোধনীর কয়েকটি অংশ বাতিল হয়েছে।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। দেশ সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় গেছে এবং পরে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আবার সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে এসেছে। ফলে সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনকাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
গণভোট প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে গণভোটের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট প্রয়োজন হবে কি না, তা নিয়েও সাংবিধানিক বিতর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘‘সংশোধনের মাধ্যমে অনেক কিছু পরিবর্তন করা যায়। প্রয়োজন হলে গণভোটের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে কিছু বিষয়ে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া হয়েছে—এমন যুক্তিও দেওয়া হচ্ছে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিতর্ক এবং এ নিয়ে আলোচনা চলতে পারে।’’
জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে তারা জুলাই সনদের ভিত্তিতে কাজ করবে। তবে সনদের কিছু প্রস্তাবে দলটির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত ছিল এবং সেই অবস্থান তারা আগেই জনগণের কাছে তুলে ধরেছে।
উচ্চকক্ষ গঠনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সংসদে একটি উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সাধারণভাবে ঐকমত্য থাকলেও এটি কীভাবে গঠিত হবে, সে বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বিএনপিরও এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে।
বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তারা আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের প্রস্তাব সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। সংসদে জনগণের সামনে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
তিনি আরও বলেন, ‘‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে তাদের প্রস্তাব গৃহীত না হলেও জনগণ তাদের বক্তব্য জানতে পারবে। জনগণ যদি সেই দাবিকে সমর্থন করে, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে তার রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে। নির্বাচনি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এভাবেই কাজ করে।’’