বিদ্যুৎ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু অসাবধানতা, ত্রুটিপূর্ণ তার, ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার কিংবা ভুল সংযোগের কারণে বিদ্যুৎ বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সামান্য অসতর্কতাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, অগ্নিকাণ্ড এমনকি প্রাণহানির মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই বিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমাতে করণীয়
কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি নিরাপত্তামূলক পরামর্শ দিয়েছে। এখানে কিছু সতর্কতামূলক করণীয় তুলে ধরা হলো-
ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ধরবেন না: পানি বিদ্যুৎ পরিবহনের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ভেজা হাত বা ভেজা জায়গায় দাঁড়িয়ে সুইচ, প্লাগ কিংবা বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে বাথরুম, রান্নাঘর বা পানির কাছাকাছি এলাকায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত তার ব্যবহার করবেন না: ছেঁড়া, কাটা বা পুড়ে যাওয়া তার, ঢিলা প্লাগ কিংবা নষ্ট বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম দ্রুত মেরামত বা পরিবর্তন করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত তারের ভেতরের বিদ্যুৎবাহী অংশ স্পর্শে এলে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অতিরিক্ত মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন: একটি সকেটে অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্র সংযুক্ত করলে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। এতে তার গরম হয়ে আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়ে। তাই অতিরিক্ত মাল্টিপ্লাগ ব্যাবহার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
বৈদ্যুতিক কাজ বিশেষজ্ঞ দিয়ে করান: নিজে নিজে বৈদ্যুতিক লাইন মেরামত করার চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে। নতুন সংযোগ, তার পরিবর্তন বা বড় ধরনের মেরামতের কাজ প্রশিক্ষিত ইলেকট্রিশিয়ানের মাধ্যমে করানো উচিত।
বিদ্যুতের লাইনের কাছ থেকে দূরে থাকুন: ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তার কখনও স্পর্শ করবেন না। দূর থেকে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানান এবং অন্যদেরও ওই স্থান থেকে দূরে রাখুন।
কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে কী করবেন
কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে প্রথমেই নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকা অবস্থায় সরাসরি আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করা বিপজ্জনক, কারণ বিদ্যুৎ শরীর থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরেও প্রবাহিত হতে পারে।
- দ্রুত সম্ভব হলে মূল সুইচ বন্ধ করুন।
- সুইচ বন্ধ করা সম্ভব না হলে শুকনো কাঠ, প্লাস্টিক বা বিদ্যুৎ অপরিবাহী কোনও বস্তু ব্যবহার করে বিদ্যুতের উৎস থেকে ব্যক্তিকে আলাদা করার চেষ্টা করুন।
- খালি হাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে টেনে ধরবেন না।
- বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তির শরীরে পানি ঢালবেন না।
- গুরুতর পরিস্থিতিতে দ্রুত জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।
বাড়িতে বিদ্যুৎ নিরাপত্তার সহজ নিয়ম
- শিশুদের নাগালের বাইরে বৈদ্যুতিক সকেট রাখুন।
- বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের পর সুইচ বন্ধ করুন।
- বজ্রপাতের সময় অপ্রয়োজনে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
- নিয়মিত বৈদ্যুতিক সংযোগ ও যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করুন।
- বৈদ্যুতিক যন্ত্র পানির সংস্পর্শে এলে পরীক্ষা ছাড়া পুনরায় ব্যবহার করবেন না।
বিদ্যুৎ নিয়ে সচেতনতা ও সামান্য সতর্কতাই অনেক বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারে। নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়ম মেনে চলার বিকল্প নেই।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপত্তা নির্দেশনা।