ভারত থেকে গরু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি সীমিত থাকলেও দেশে বড় ধরনের কোনও সংকট তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার’র এক দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও মিলনমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কোরবানির সময় ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ ছিল। ওরা আমাদের গরু দেয়নি। তাতে কি এবার গরুর অভাব হয়েছে? হয়নি। দেশেই পর্যাপ্ত উৎপাদন হয়েছে। ওরা আমাদের পেঁয়াজ, মরিচ, মসলা বা ডাল না দিলেও পেঁয়াজের দাম মানুষের সক্ষমতার বাইরে যায়নি।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র যেমন বিভিন্ন মত, ধর্ম ও পেশার মানুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে, তেমনি বাংলাদেশের সমাজের মূল ভিত্তি কৃষি ও কৃষক। দেশের কৃষকরা পরিশ্রম, সচেতনতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার মাধ্যমে নানা সংকটেও খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, করোনা মহামারি ও জ্বালানি সংকটের সময়ও কৃষকরা বিকল্প উপায়ে সেচ দিয়ে উৎপাদন চালিয়ে গেছেন। দেশের অধিকাংশ অর্জনের পেছনে কৃষকদের অবদান রয়েছে। বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, গরু, ডিমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি কৃষক ও গ্রামবাংলা। দেশের খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল হতে পারবে। তাই ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
আয়োজকরা জানান, ‘মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার’ সংগঠনটি ‘মোরাল প্যারেন্ট’, ‘মোরাল চাইল্ড’ ও ‘ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান’—এই তিন স্তরে কার্যক্রম পরিচালনা করে। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার, প্রোগ্রামিং, আইইএলটিএস, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভাষা শিক্ষা ও নেতৃত্ব উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভলান্টিয়ারিং, বই পড়া উৎসব, ইংলিশ আড্ডা ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবাসহ নানা সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সংগঠনটির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের সঙ্গে ১ হাজার ৫৫৮ জন ‘মোরাল চাইল্ড’, ৫৯৬ জন ‘মোরাল প্যারেন্ট’ এবং ৯৬ জন ‘ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান’ যুক্ত রয়েছেন।