১৯৭১ এর গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া

জাতিসংঘের বক্তব্যে আইসিএসএফ এর নিন্দা

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরামআপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মানবতাবিরোধী অপরাধী মতিউর রহমান নিজামী এবং মীর কাসেম আলীর দণ্ডাদেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশন এর মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানির বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ)। তার ওই বক্তব্য প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত করলে রাভিনা শামদাসানি উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন।
হাইকমিশনের এই বিভ্রান্তিকর বিবৃতিতে বলা হয়,এই দুই যুদ্ধাপরাধীর বিচারের ক্ষেত্রে নাকি জাতিসংঘের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের সনদ (আইসিসিপিআর)-এ বিধৃত বিচারের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।
তবে আইসিএসএফ মনে করছে, হাইকমিশনের দাবি সত্য নয়। কারণ, এই দুই অপরাধীর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯৭৩ এবং ট্রাইব্যুনালের কার্যবিধিই অনুসরণ করা হয়েছে, যা কার্যত আইসিসিপিআর-এ বিধৃত কথিত সেই মানদণ্ডেরই প্রতিফলন। তারা বলছে, জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের কথিত অবস্থান শুধু অসত্য ও বিভ্রান্তিকরই নয়, তা জাতিসংঘের নিজেরই বিধৃত মানবাধিকার আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। কারণ, আইসিসিপিআর এর অনুচ্ছেদ ৬(২)-এ হাইকমিশনের  ঠিক বিপরীত অবস্থানই ব্যক্ত করা হয়েছে।
আইসিএসএফ-এর পক্ষ থেকে রায়হার রশীদ বলেন, তারা পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জাতিসংঘের জন্য প্রস্তুত করেছেন। সংগঠনটি মনে করে জাতিসংঘের উচিত সর্বতোভাবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই বিচার প্রক্রিয়ার পাশে দাঁড়ানো। কারণ, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত গণহত্যাসহ অন্যান্য অপরাধগুলোকে ঘিরে চার দশকের যে বিচারহীনতা তা মোকাবেলায় বর্তমান পৃথিবীতে এই ট্রাইব্যুনালই একমাত্র বিচার প্রক্রিয়া।
আইসিএসএফ-এর পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনকে এই আপত্তিকর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এই বিচার প্রক্রিয়াকে সহায়তাকল্পে জাতিসংঘ যেন বাংলাদেশের সরকার, ট্রাইব্যুনাল, এবং ১৯৭১ এর ভিকটিমদের পক্ষে সক্রিয় নাগরিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে।
বিবৃতিতে আইসিএসএফ আরও জানায়, ১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের স্থানীয় দোসর জামায়াতে ইসলামী-রাজাকার-আলবদর-আলশামসরা মিলে ভয়াবহ আন্তর্জাতিক অপরাধে লিপ্ত ছিল স্বাধীনতাকামী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, তখন এই জাতিসংঘ ছিল নিরব এবং নিষ্ক্রিয়। এরপর চার দশকেও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার লক্ষ্যে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি জাতিসংঘের পক্ষ থেকে। অবশেষে যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হল, তখনও পাকিস্তানের অনৈতিক লবিং এর কাছে নতি স্বীকার করে জাতিসংঘ বাংলাদেশের এই বিচার প্রক্রিয়াকে শুধু পরিত্যাগই করেনি, সব ধরনের কারিগরি ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানেরও বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। 

 

/ইউআই/এমএসএম /