একটি জন্মনিবন্ধন সনদই একজন শিশুর রাষ্ট্রের কাছে প্রথম আইনি পরিচয়। এর ওপর নির্ভর করে স্কুলে ভর্তি, টিকাদান, উচ্চশিক্ষা, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ নানা সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ। অথচ দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পথশিশু এখনও এই মৌলিক পরিচয় থেকে বঞ্চিত।
প্রশ্ন হলো, জন্মনিবন্ধন না থাকলে এই শিশুরা কি রাষ্ট্রের কাছে কার্যত অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে? আর তাদের ভবিষ্যৎই বা কী?
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এর পেছনে আইনগত বাধার চেয়ে তথ্যের ঘাটতি, সমন্বয়ের অভাব এবং বিধিমালা সম্পর্কে অজ্ঞতাই বেশি দায়ী।
জরিপে যা উঠে এসেছে
দেশে বর্তমানে কতজন পথশিশু জন্মনিবন্ধনের বাইরে রয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই খোদ স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের কাছেও।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কার্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জন্মনিবন্ধনের তথ্যভান্ডারে ‘পথশিশু’ নামে আলাদা কোনও শ্রেণি না থাকায় এ ধরনের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করা হয় না।
ইউনিসেফের সহযোগিতায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস)-২০২৫ অনুযায়ী, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মাত্র ৫৯ শতাংশের জন্মনিবন্ধন হয়েছে। আর ৪৭ শতাংশ শিশুর হাতে জন্মসনদ রয়েছে। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু এখনও আইনি পরিচয় ও বিভিন্ন সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
অপরদিকে, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীর ৬৬৭ জন পথশিশু এবং ১ হাজার ২৪৬টি বস্তিবাসী পরিবারের ওপর কারিতাস বাংলাদেশের পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ (৩৮৮ জন) পথশিশুর জন্মনিবন্ধন নেই।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, জন্মনিবন্ধন না থাকা শিশুদের ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ তাদের বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর জানে না। একই সঙ্গে জরিপে অংশ নেওয়া শিশুদের ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ বর্তমানে কোনও স্কুল বা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে না।
এছাড়া মাত্র ৫ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। বাকি সবাই এর বাইরে।
জরিপে অংশ নেওয়া বস্তি পরিবারের ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ নিম্ন আয়ের (মাসিক আয় ১২ হাজার ৫০০ টাকার কম)। এসব পরিবারের ৯১ দশমিক ৭ শতাংশ কোনও সরকারি সুবিধা পায় না। এছাড়া বস্তির ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ শিশু একসময় পথশিশু হয়ে ওঠে এবং ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবারের কোনও শিশুরই জন্মসনদ নেই।
জন্মনিবন্ধন না থাকলে কী কী সমস্যায় পড়তে হয়
জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী, সরকার ইস্যুকৃত জন্ম ও মৃত্যু সনদ কোনও ব্যক্তির বয়স, জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য প্রমাণে আদালত, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব দাফতরিক কাজে আইনগত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
আইন অনুযায়ী, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের সব নথি ও নিবন্ধন বহি পাবলিক ডকুমেন্ট হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়া অন্য যেকোনও আইনে ভিন্ন কিছু থাকলেও পাসপোর্ট ইস্যু, বিবাহ নিবন্ধন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, জমি রেজিস্ট্রেশন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জীবন বিমাসহ বিধি দ্বারা নির্ধারিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বয়স প্রমাণের জন্য জন্মসনদ ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
অর্থাৎ জন্মনিবন্ধন না থাকলে একজন ব্যক্তি এসব গুরুত্বপূর্ণ সেবা ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মনিবন্ধনের অভাব শুধু একটি সনদের অভাব নয়; এটি একজন শিশুর আইনি পরিচয় এবং নাগরিক অধিকার কার্যকরভাবে ভোগ করার পথে বড় বাধা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও প্রকল্প পরিচালক আবু হাসানাত মোহাম্মদ কিশোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “জন্মনিবন্ধন না থাকলেই কেউ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব হারায় না। নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয় দেশের প্রচলিত নাগরিকত্ব আইনের ভিত্তিতে। তবে জন্মনিবন্ধন না থাকলে সেই নাগরিকত্ব প্রমাণ করা কঠিন হয়ে যায়। ফলে তারা বাস্তবে অনেক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।”
তিনি বলেন, “জন্মনিবন্ধন রাষ্ট্রের কাছে একজন শিশুর আইনি অস্তিত্বের প্রথম প্রমাণ। এটি না থাকলে পথশিশুরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার ভোগে বাধার মুখে পড়ে।”
স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন বিষয়ে রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “জন্মনিবন্ধন না থাকলে আইন অনুযায়ী অন্তত ১৫ থেকে ২০ ধরনের সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। বর্তমানে টিকাদান, স্কুলে ভর্তি এবং শিশুদের জন্য বিভিন্ন সেবা গ্রহণেও জন্মনিবন্ধন অপরিহার্য। সময়ের সঙ্গে এর গুরুত্ব আরও বাড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, “একজন শিশুর জীবনের শুরুতেই টিকাদান ও বিদ্যালয়ে ভর্তি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আর এই দুই ক্ষেত্রেই জন্মনিবন্ধন প্রথম প্রয়োজনীয় নথি।”
তথ্যের অভাবই সবচেয়ে বড় বাধা
সংশ্লিষ্টদের মতে, পথশিশুদের জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা আইনের জটিলতা নয়, বরং প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব।
কারিতাস বাংলাদেশের জরিপ অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধন না থাকা অধিকাংশ পথশিশুই তাদের বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর জানে না। অনেকেই বাবা-মায়ের পরিচয় সম্পর্কেও অবগত নয়। ফলে নিবন্ধনের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পিতামাতার পরিচয় না থাকলেও জন্মনিবন্ধন করা সম্ভব।
কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “এর আগে বিভিন্ন এনজিও জন্মনিবন্ধন নিয়ে কাজ করেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ওয়ার্ডভিত্তিক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অঞ্চলভিত্তিক নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তবে নিবন্ধন কর্মকর্তাদের পক্ষে এককভাবে সব প্রান্তিক শিশুর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এজন্য এনজিওগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, “পথশিশুদের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হলো জন্মনিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রের অভাব। অনেক সময় জন্মতারিখ বা জন্ম-সংক্রান্ত কোনও প্রমাণপত্রই থাকে না।”
তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের জন্মনিবন্ধন বিধিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তথ্যের ঘাটতির কারণে কাউকে আবেদন থেকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। যেসব তথ্য পাওয়া যাবে না, সেসব স্থানে ‘অপ্রাপ্য’ উল্লেখ করেই আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। কোনও তথ্য অনুমান করে বা বানিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে বাস্তবে অনেক নিবন্ধন কর্মকর্তা এ বিধান সম্পর্কে অবগত নন অথবা জটিল আবেদন নিষ্পত্তিতে দ্বিধায় থাকেন। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের ভুয়া জন্মনিবন্ধনের ঘটনা সামনে আসার পর অনেকেই অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে পড়েছেন। এর প্রভাব পড়ছে পথশিশু ও পিতৃ-মাতৃপরিচয়হীন শিশুদের আবেদনেও।
এ কারণে নিবন্ধন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কীভাবে হবে জন্ম নিবন্ধন
পথশিশুদের জন্ম নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সাধারণ আবেদনকারীদের মতো নয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন সহকারী নিজস্ব ইউজার আইডি ব্যবহার করে আবেদন করেন। যে তথ্য পাওয়া যায়, তা আবেদনপত্রে যুক্ত করা হয়। আর যেসব তথ্য পাওয়া যায় না, সেগুলোর স্থানে 'অপ্রাপ্য' উল্লেখ করা হয়। এরপর আবেদনটি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) অনুমোদনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, জন্মনিবন্ধনের বাইরে থাকা কোনও শিশু পরে নিবন্ধন করতে চাইলে তাকে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে যেতে হবে। সেখানে নিবন্ধন সহকারী প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আবেদন প্রস্তুত করবেন। শিশুটি নিজে অনলাইনে আবেদন করতে পারবে না।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নিবন্ধক এবং সচিব নিবন্ধন সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একইভাবে সিটি করপোরেশনে কাউন্সিলর নিবন্ধক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিবন্ধন সহকারী হিসেবে কাজ করেন। তথ্যের ঘাটতি থাকলে তা ‘অপ্রাপ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে আবেদনটি ডিসি কার্যালয়ে পাঠানো হয়। অনুমোদন পেলেই জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন হয়।
যেসব শিশু জন্মনিবন্ধনের গুরুত্ব বোঝার মতো বয়সে পৌঁছেনি, তাদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, নিবন্ধন কার্যালয়, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সমাজসেবা অধিদফতর ও বিভিন্ন এনজিও’র। কর্মকর্তা জানান, পথশিশু, পিতৃ-মাতৃপরিচয়হীন এবং অন্যান্য প্রান্তিক শিশুর জন্মনিবন্ধন সহজ করতে সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কিশোয়ার হোসেন বলেন, “বিশেষ ক্যাম্পেইন, মোবাইল জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সক্রিয় উদ্যোগ, সমাজসেবা অধিদফতর, এনজিও ও সিভিল সোসাইটির সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং আশ্রয়কেন্দ্র ও ড্রপ-ইন সেন্টারের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম জোরদার করা গেলে আরও বেশি পথশিশুকে জন্মনিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব। হাসপাতালের সঙ্গে জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থার ডিজিটাল সংযোগও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর
সংশ্লিষ্টদের মতে, পথশিশুদের জন্মনিবন্ধনের সবচেয়ে বড় বাধা আইন নয়, বরং সমন্বয়ের অভাব। সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদফতর এবং বেসরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে জন্মনিবন্ধনের বাইরে থাকা হাজারো শিশুকে সহজেই আইনি পরিচয়ের আওতায় আনা সম্ভব।
সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “জন্মনিবন্ধন একজন মানুষের প্রথম আইনগত পরিচয়। এটি না থাকলে একজন ব্যক্তি কার্যত রাষ্ট্রের চোখে অদৃশ্য থেকে যায়। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে পথশিশুরাও বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাদের জন্মনিবন্ধন করানোর সুযোগ আইনেই রয়েছে।”
তিনি বলেন, “এনজিও, সামাজিক সংগঠন বা সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান যদি পথশিশুদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে, তাহলে নিবন্ধন কার্যক্রম অনেক সহজ হবে। গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌর এলাকায় পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন অফিসের মাধ্যমে এ কাজ পরিচালনা করা সম্ভব।”
জন্মনিবন্ধন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সারা দেশের নিবন্ধক ও নিবন্ধন সহকারীদের প্রশিক্ষণে পথশিশু ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্মনিবন্ধন নিয়ে বিশেষ সেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তাদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে মাঠপর্যায় থেকেই জন্মনিবন্ধনের বাইরে থাকা শিশুদের শনাক্ত করে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় আনা যায়।