কিন্তু এই নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলে বিএনপি-জামায়াত এখন বিভক্ত। এতে বেকায়দায় পড়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। ফুরফুরে মেজাজ ও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। দুই উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে নয়টিতেই নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কেউ কাউকে ছাড় দেওয়ার মনোভাব নেই। এই দুই দলের মধ্যে ঐক্য না হওয়ায় বিএনপি প্রার্থীরা বিজয় নিয়ে সন্দিহান রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,বিএনপির কাছে জামায়াত এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোটাররা বলছেন,তৃণমূলে বিএনপি-জামায়াতের বিভক্তির মূল্য দিতে হবে ২৩ এপ্রিল। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে বিএনপি বা জামায়াতের কোনও প্রার্থীরই জয়লাভ সহজ হবে না একে অপরের ভোট ছাড়া। দুই দলেরই নিজস্ব প্রার্থী থাকায় তাদের ভোট দুই ভাগ হয়ে যাবে।
জানা গেছে, রাজশাহীর তানোর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতেই শক্তিশালী প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। দলটি নির্বাচন কমিশনের আওতায় নিবন্ধিত না হওয়ায় প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন। এ কারণে বিএনপির ঘাঁটিতে কৌশলী জামায়াত এখন গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তানোর উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখেরুজ্জামান হান্নান। এখানে জামায়াতের প্রার্থী ইউনিয়ন জামায়াতের অন্যতম সদস্য আক্কাস আলী। পাঁচন্দর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী মোমিনুল হক মমিন। এই ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আলমগীর হোসেন। কলমা ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হযরত আলী। এখানে জামায়াতের প্রার্থী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. বদরুদ্দোজা রমজান। কামারগাঁ ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী জাকির হোসেন জুয়েল। এখানেও জামায়াতের প্রার্থী করা হয়েছে ইউনিয়ন জামায়াতের অন্যতম সদস্য ডা. ওবাইদুর রহমানকে। এসব ইউনিয়নে বিএনপি-জামায়াত আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। ভোটারদের অভিমত, এই ৭ ইউনিয়নের ৫টিতেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। ফলে এসব ইউনিয়নে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।
এদিকে গোদাগাড়ী উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতেই প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। গোদাগাড়ীতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর নুরুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে মাটিকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বে রয়েছেন। এই ইউনিয়নে তিনি বিএনপি প্রার্থী আলী আযম তৌহিদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। বাসুদেবপুর ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান বেবির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন জামায়াত নেতা মাহতাব উদ্দীন। পাকড়িতে বিএনপির আনারুল ইসলামের বিরুদ্ধে লড়ছেন জামায়াতের তাজিমুল ইসলাম। দেওপাড়ায় বিএনপি জোটের প্রার্থী সাম্যবাদী দলের প্রার্থী মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে লড়ছেন জামায়াত নেতা আজাহার আলী মাস্টার। এ ইউনিয়নে উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন বাবুও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। এই চার ইউনিয়নের একটিতেও আওয়ামী লীগের কোনও বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। ফলে এসব ইউনিয়নে জয়ের ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।
এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও কলমা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ডা. বদরুদ্দোজা রমজান বলেন. তানোরের সাতটির মধ্যে পাঁচটিতে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী রয়েছে। আমাদের সকল প্রার্থীই তাদের এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিএনপির সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে আমাদের কোনও সখ্যতা বা মিত্রতা নেই। তাই জোট করে তাদের সঙ্গে নির্বাচন করার প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের প্রার্থীরা তাদের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার শক্তিতেই জয়লাভ করবেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও মাটিকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি বড় দল। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব তাদের কাছ থেকেই আসার কথা। কিন্তু তারা আমাদেরকে এ ব্যাপারে কিছু বলেনি। একারণে আমরা নিজেদের শক্তি ও সাংগঠনিক ক্ষমতা নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি।
এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোনও জোট নেই। বিএনপি-জামায়াত এ নির্বাচনে পৃথকভাবে অংশ নিচ্ছে। তবে এ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীরা প্রচারণায় প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছেন। এরপরেও জনপ্রিয়তার কারণে আমাদের প্রার্থীদের ভোটাররা নির্বাচিত করবেন বলে আমরা আশাবাদী।
বিএনপি-জামায়াত জোট থাকা বা না থাকা মূল ব্যাপার না বলে মন্তব্য করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, রাজনৈতিক আদর্শের দিক থেকে আমরা বিএনপি বা জামায়াতকে ভিন্নভাবে দেখি না। আর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে তাদের ঐক্য বা জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার বিষয়টিও বড় কথা না। এটি খুব একটা ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে না। কারণ, জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে।
/এমএসএম/