বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউন কার্যালয় পরিদর্শনে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত

দেশের অন্যতম শীর্ষ অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এবং জাতীয় ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনের কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি। রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ এবং বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম তাকে স্বাগত জানান। এসময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের কাউন্সেলর মোরাকোট ওয়েরাওয়াংফ্রম, এবং দ্বিতীয় সচিব চকারিয়া চিওয়াতারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এসময় তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের সঙ্গে কূটনীতিকদের এমন আয়োজন সত্যি প্রশংসনীয়।’

দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক গভীরে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দুই দেশ একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলাপ করছে। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকক একটি দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী, যা বাংলাদেশে থাইল্যান্ডের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করবে।’

এছাড়া রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রামের সঙ্গে থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের শিপিং রুট চালুর বিষয়েও কাজ চলছে বলে তিনি জানান। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘উভয় দেশ থাইল্যান্ডের রানং বন্দর এবং বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সরাসরি শিপিং রুট চালুর পরিকল্পনা করছে। আগামী সেপ্টেম্বরে দুই দেশের শিপিং কর্তৃপক্ষের মধ্যে এই পরিষেবা শুরু হতে পারে বলেও তিনি আশা করেন।

এসময় পর্যটকদের জন্য এই রুটে জাহাজ চলাচলের বিষয়টিও আলাপে উঠে এসে। রানং বন্দরের কাছেই থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় গন্তব্য ফুকেট।

ভিসা ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, দূতাবাস ভিসা প্রত্যাখ্যান কিংবা ইস্যুর বিষয়ে কোনও হস্তক্ষেপ করে না। আবেদনকারীর কাগজপত্র ঠিক থাকলে এমনিতে ভিস ইস্যু করা হয়। কিন্তু কাগজপত্র গরমিল থাকলে সেক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ে অতিরিক্ত সময় লেগে যায়। তাতে করে ভিসার আবেদন নিষ্পত্তি করতে ১ মাসেরও বেশি সময় লেগে যায়। সব কিছু ঠিক থাকলে, আবেদন সম্পূর্ণ থাকলে সাত কর্মদিবসে ভিসা হয়ে যায়।

দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, বছরে দুই ঈদের ছুটির আগে ভিসা আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। সেসময় প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার আবেদন জমা পড়ে। এছাড়া অন্যান্য সময় দিনে গড়ে ৮০০ আবেদন জমা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, অর্ধেক আবেদনের সঙ্গে কাগজপত্র ভুয়া।

ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের কার্যালয়ে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত

এসময় রাষ্ট্রদূত দুই দেশের গণমাধ্যমের মাধ্যমে আদানপ্রদান এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধির উপর গুরুত্বআরোপ করেন।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে পণ্য সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়, যার জন্য প্রায় দুই সপ্তাহের ট্রানজিট প্রয়োজন। উভয় পক্ষই চট্টগ্রাম বন্দরকে থাইল্যান্ডের আন্দামান উপকূলের রানং বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করে সরাসরি উপকূলীয় জাহাজ চলাচলের পরিকল্পনা করছে। এই লিংক স্থাপনের ফলে ট্রানজিটকে ছয় দিনে কমিয়ে আনা হবে এবং লজিস্টিক খরচ হ্রাস পাবে ও প্রতিযোগিতা বাড়বে। থাইল্যান্ড রানং বন্দরকে বিমস্টেক সদস্যদের প্রবেশদ্বার এবং আন্দামান সাগরে জাহাজ হাব হিসেবে গড়ে তুলছে। বিমসটেক মাস্টার প্ল্যান অন কানেক্টিভিটিতে রানং এবং চট্টগ্রাম, চেন্নাই এবং কলম্বোর মধ্যে সরাসরি শিপিং লিঙ্কের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরাসরি শিপিংয়ের সঙ্গে বার্ষিক বাণিজ্য চারগুণ বেড়ে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হতে পারে।  

থাইল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দুই দশক আগে ৩২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, থাইল্যান্ড বাংলাদেশে ১ দশমিক ০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশ থাইল্যান্ডে ৮৪ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুল্যের পণ্য রফতানি করেছে। ২০২৩ -২৪ অর্থবছরে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রফতানি ছিল ৬৩ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বিনিময়ে বাংলাদেশের আমদানি ছিল ৮৭১ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ বাণিজ্য ঘাটতি ছিল প্রায় ৮০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতির জন্য। - বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় থাইল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।