শিশু বয়সে বাবার সঙ্গে বিদেশে গিয়ে মানবপাচারের শিকার হওয়া মোহাম্মদ ফরিদ দীর্ঘ ২৫ বছর পর মায়ের কাছে ফিরছেন। অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে কক্সবাজারের বৃদ্ধ মা নূরজাহান বেগমের।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে কক্সবাজার থেকে ফরিদের ভাই সৈয়দ আলম ঢাকার উদ্দেশে বাসে রওনা হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে তারা ঢাকার আশকোনায় ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে পৌঁছাবেন। এরপর ব্র্যাক ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে ফরিদকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবেন।
বুধবার ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান এসব তথ্য জানান।
২৫ বছর আগে মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে দেশ ছাড়েন মোহাম্মদ ফরিদ। প্রথমে যান পাকিস্তানে। সেখানে এক দুর্ঘটনায় তাঁর একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে দালালদের মাধ্যমে তাকে তুরস্কে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দীর্ঘদিনের দুঃসহ অভিজ্ঞতার পর গত মঙ্গলবার ভোরে দেশে ফেরেন ফরিদ।
ব্র্যাক জানায়, ১৮ আগস্ট ভোর সোয়া ৫টার দিকে তুরস্ক থেকে টিকে ৭১২ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘদিন বাংলা ভাষায় কথা বলার সুযোগ না থাকায় ফরিদ ভালোভাবে বাংলায় কথা বলতে পারছিলেন না। তিনি শুধু নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম এবং কয়েকটি বিচ্ছিন্ন তথ্য দিতে পারেন।
বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে পরিবার খুঁজে বের করতে তাকে ব্র্যাকের আশকোনা মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তার সঙ্গে কথা বলে পরিবারের সন্ধানে কাজ শুরু করেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় দেশে ফেরার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা পালং ইউনিয়নের নাছির পাড়ায় ফরিদের পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়।
পরে ব্র্যাকের কক্সবাজার মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় নাছির পাড়ায় গিয়ে ফরিদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।
ব্র্যাক জানায়, পরিবারের সন্ধান পাওয়ার খবর জানানোর পর বুধবার বিকেলে ফরিদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের ভিডিও কলে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ফরিদ তার ভাই সৈয়দ আলমকে জিজ্ঞেস করেন, তার হাতে একটি আঙুল কম ছিল কিনা। সৈয়দ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সৈয়দ আলম জানান, তাদের বাবা আয়ুব আলী এখনও পাকিস্তানে রয়েছেন। তাদের তিন ভাই ও এক বোন। ফরিদ সবার বড়।
তিনি বলেন, তুরস্কে যাওয়ার পর ফরিদের সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। দীর্ঘ ২৫ বছর পর তারা ভাইকে ফিরে পাবেন। একইসঙ্গে বড় ছেলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করা মায়েরও অপেক্ষার অবসান হবে।